সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা ফ্রান্সের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০২৫, ৯:০৫:১১ অপরাহ্ন

অনুক্ত কামরুল, ফ্রান্স: আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স। সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি এই ঘোষণা ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ দেবেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া বার্তায় নিশ্চত করেছেন ফ্রান্সের প্রভাবশালী এই রাষ্ট্রপতি। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ছাড়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। ফ্রান্স বিশ্বাস করে, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সেই শান্তির পথে একটি ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত বহু দশকের ফিলিস্তিনি সংগ্রামের প্রতি এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মান। এটি শুধু কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং একটি নৈতিক অবস্থান-যে বিশ্বের প্রত্যেক জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। ম্যাক্রোঁর এই ঘোষণাকে মানবাধিকার সংগঠন, শান্তিপ্রিয় মানুষ ও বহু ইউরোপীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‘সাহসী ও সময়োপযোগী’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করার সামিল। তিনি দাবি করেন, এই স্বীকৃতি হামাসকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের একচেটিয়া দখল ও দমননীতির ধারাবাহিকতা মাত্র।
ফ্রান্সের কট্টর-ডানপন্থী দল রাসাম্বলমাঁ নাসিওনাল-এর নেতা জর্ডান বারদেলা এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি হামাসকে বৈধতা দেবে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বারদেলার বক্তব্য আসলে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় অধিকারের বিপক্ষে একটি পুরনো অবস্থানের পুনরাবৃত্তি।
সম্প্রতি স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়েসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্রান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এই তালিকায় যুক্ত হলে তা ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের পথে একটি বিশাল মাইলফলক হবে। ম্যাক্রোঁর ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্যালেস্টাইন অথরিটির এক মুখপাত্র বলেন, এটি শুধু ফ্রান্সের পক্ষ থেকে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা।





