বাংলাদেশি তেলের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে দেবে ইরান : রাষ্ট্রদূত
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ মার্চ ২০২৬, ৯:০০:১৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানিবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পারের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি দেখেছি যে আপনার দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। জ্বালানি সমস্যার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশের তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইরান সরকারকে অনুরোধ করতে বলেছেন। আমি এটি করেছি। আমি ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা প্রস্তুত। যদি আপনার কাছে এমন কোনো জাহাজ থাকে, যা হরমুজ প্রণালিতে আপনার জন্য জ্বালানি পরিবহন করতে চায়, তাহলে আমরা আপনার জাহাজগুলিকে নিরাপদে যেতে দেব, যাতে বাংলাদেশের মানুষ এবং এখানকার প্রিয় মানুষদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে লাগাম টেনেছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় এই জলপথ দিয়ে। হরমুজ প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। তারা সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব বাজারে তেলের ব্যারেল প্রতি দর বেড়ে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালি হয়ে চীনের তেলবাহী ট্যাংকার পার হওয়ার খবর ইতোমধ্যে এসেছে। ভারতের তেলবাহী ট্যাংকারও ওই প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ পাওয়ার কথাও উঠে এসেছে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় তেল বিক্রিতে লাগাম টেনেছে সরকার। তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগাম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কুদস কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।
‘আমেরিকা চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত নয়’ : আলোচনা চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা কথা কথা তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে এক প্রশ্নে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, দেখুন, আমরা আমেরিকার সাথে দুবার আলোচনা করছিলাম, তারা আমাদের আক্রমণ করেছিল। আমরা কার সাথে আলোচনা করব? আলোচনার মাঝখানে আক্রমণকারী কারো সাথে আলোচনা করা কি মূল্যবান?
আমেরিকা আমাদের অধিকার স্বীকার না করলে এবং আবার আমাদের আক্রমণ করবে না, এমন সম্মতি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করতে পছন্দ করি। যদি আমরা লড়াই না করি, যদি আমরা পিছু হটি এবং আমেরিকা আবার আলোচনার বিষয়টি উত্থাপন করে, তাহলে কী গ্যারান্টি আছে যে তারা আলোচনার মাঝখানে আবার আমাদের আক্রমণ করবে না? তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত নয়।
আরেক প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী বলেন, আমরা যুদ্ধে নেই, আমরা নিজেদের রক্ষা করছি। আমাদের উপর ইসরায়েল আক্রমণ করেছে। যখন তোমাদের উপর আক্রমণ করা হয় তখন তোমরা নিজেদের রক্ষা করো। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি। আমরা আমাদের নিজস্ব দেশ, আমাদের নিজস্ব ভূমি, জল এবং আমাদের নিজস্ব জনগণকে রক্ষা করছি। আমরা এই অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিগুলিতেও আক্রমণ করছি যাদের বিভিন্ন দেশে ঘাঁটি রয়েছে।
আমেরিকাকে ঘাঁটি করতে না দিতে আরব দেশগুলোকে সতর্ক করার কথা তুলে ধরে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, কুর্দিস্তান অঞ্চল, আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত বা সৌদি আরব যাই হোক না কেন, আমরা আগে যেমন সতর্ক করেছিলাম, আমরা এই ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ করছি। কিন্তু আমরা কোনও আঞ্চলিক যুদ্ধ চাইছি না। আমরা ইসলামী এবং প্রতিবেশী দেশগুলিকে যুদ্ধে জড়াতে চাই না। তবে তাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে তাদের মাটি থেকে, বা তাদের মাটিতে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটি থেকে আমাদের আক্রমণ করা যাবে না। আমরা উদাসীন থাকতে পারি না, আমাদের যেকোনো অবস্থাতেই আমাদের নিজস্ব জনগণ এবং আমাদের নিজস্ব ভূমি রক্ষা করতে হবে।
পরাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা ইসরায়েলকে আক্রমণ করে এবং আমেরিকান স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ করে তাদের যুদ্ধবিরতি এবং পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের নিজস্ব দেশকে রক্ষা করার জন্য যা করতে পারি তা করেছি।





