এসএসসি’র প্রথম দিনেই ঘন ঘন লোডশেডিং
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬:২২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : এসএসসি ও সমনানের পরীক্ষার প্রথম দিনে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সীমাহিন দুভোগের শিকার হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা| ৩ ঘন্টা সময়ের পরীক্ষা চলাকালে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার লোডশেডিং হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের| এতে তীব্র গরমে পরীক্ষার্থীদের লেখায় ছন্দপতন ঘটেছে| যা ভালো ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা অভিভাবকদের|
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই সিলেটে বাড়তে থাকে লোডশেডিং| পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলে বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে লোডশেডিং| এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা| ধস নেমেছে ব্যবসা বাণিজ্যে| এসএসসি পরীক্ষার দিনে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিভাবকরা| কিন্তু এসএসসির প্রথম দিনেই সীমাহিন লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক| এমনকি পরীক্ষার আগের দিন রাতে এবং পরীক্ষার দিন সকালেও লোডশেডিং হয়| এতে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটে পরীক্ষার্থীদের|
মঙ্গলবার নগরীর কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে ও পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না তারা| বিশেষ করে পরীক্ষার দিন সকালেও বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে অনেককে|
নগরীর একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী সজীব আহমদ বলেন, সকালে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার আগে একটু রিভিশন দিতে পারিনি| এতে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটেছে| পরীক্ষার সময় অন্তত লোডশেডিং কিছুটা কম করা উচিত| কারণ এমনিতেই প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং হয়| অন্তত পড়ালেখা ও পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখার দাবী জানান তিনি|
এসএসসি শিক্ষার্থী সামিনা আহসান বলেন, পরীক্ষা ভালো হয়েছে| কিন্তু পরীক্ষা চলাকালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘেমে পরীক্ষা দিতে হয়েছে| সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে পরীক্ষার সময়টা যেনো জরুরী উপায়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থাটা ঠিক রাখেন|
এদিকে অভিভাবকরাও ক্ষোভ জানিয়েছেন, এক অভিভাবক জানান ছেলের প্রথম পরীক্ষা ছিল মঙ্গলবার| পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে| কিন্তু এই লোডশেডিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে| এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন অন্তত বিদ্যুৎ সরবরাহটা ¯^াভাবিক রাখা উচিত|
মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, সিলেট বিভাগে এবার মোট ৮৯ হাজার ৬৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে| এর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৬৫০ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৯৯৩ জন| বিভাগজুড়ে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২২৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে|
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, মঙ্গলবার সিলেট বিভাগে ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৫০ মেগাওয়াট| ফলে ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে| স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু করার নেই| লোডশেডিং জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়|
সিলেটের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, মঙ্গলবার সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪০৮ মেগাওয়াট| বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ২৫২ মেগাওয়াট| লোডশেডিং হয়েছে ১৫৫ মেগাওয়াট| তিনি বলেন, সরবরাহের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়| তাই স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু করার নেই|





