রেমিট্যান্সের পতনে চাপে অর্থনীতি
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৫:৫২ অপরাহ্ন
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘রেমিট্যান্সের পতনে আরও বড়ো চাপে পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, এশিয়ার অর্থনীতি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ’-রেমিট্যান্সেও বড়ো ধাক্কা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স কমে গেলে তা চলমান সংকটময় পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলবে, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বহু দেশে।
লক্ষণীয় যে, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২ কোটিরও বেশী মানুষ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের অর্থাৎ জিসিসি’র ৬টি দেশে কাজ করছিলেন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশী। এই শ্রম শক্তির মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও ব্যবসায়ী থাকলেও অধিকাংশই শেফ, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মীসহ স্বল্পদক্ষ পেশায় নিয়োজিত।
যুদ্ধ সংঘাতের কারণে তাদের অনেকেই দেশে ফিরে যাওয়ায় শ্রম রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য বড়ো অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। তারা আরো বলেন, ধনী প্রবাসীদের মতো স্বেচ্ছায় নয়, বরং বাধ্য হয়েই অধিকাংশ অভিবাসী শ্রমিক দেশে ফিরছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে গত মার্চে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশীদের অভিবাসন ছাড়পত্র কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৭৯, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিলো ৯২ হাজার ৪৬০। বিদেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রেমিট্যান্স অর্থাৎ প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ২শ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা জিডিপি’র প্রায় ৬.৫ শতাংশের সমান।
অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপিটাল ইকোনোমিক্স’ জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জিডিপি ১ থেকে ২ শতাংশ কমলে সাধারণত অভিবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, জিসিসি দেশগুলো চলতি বছরে এমন অর্থনৈতিক সংকোচনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো আরও বড়ো চাপে পড়বে, যারা এরই মধ্যে যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদেও পড়তে পারে। কারণ এই অর্থ দিয়ে অনেক প্রবাসীর পরিবার শিক্ষায় বিনিয়োগ করে, যা মানুষকে কম উৎপাদনশীল কৃষিকাজ থেকে সরিয়ে উচ্চআয়ের পেশায় যেতে সহায়তা করে। সান দিয়েগো’র ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকদের এক গবেষণায় এমন তথ্য ওঠে এসেছে।
আশাবাদীদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলে যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য ভবিষ্যতে আবার শ্রমিক চাহিদা বাড়তে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশে শ্রম বাজারের নতুন পথ খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, এমনকি থাইল্যাণ্ডও হতে পারে নতুন গন্তব্য। এজন্য বাংলাদেশকে এখন থেকেই শ্রম কূটনীতি জোরদার করতে হবে।



