মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৬২ অভিবাসী আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ৬২ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন| ২১ এপ্রিল সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় ‘অপস মাহির’ নামে চলে সমন্বিত অভিযান| অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প ও লজিস্টিক খাতে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের উপস্থিতি শনাক্ত ও দমন করা|
অভিযানে অংশ নেন ৬৬ জন অভিবাসন কর্মকর্তা| তাদের সঙ্গে সহায়তায় ছিলেন জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর আরও ১২ জন কর্মকর্তা| অভিযান চলাকালে দুটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে মোট ১১২ জন ব্যক্তিকে যাচাই করা হয়|
যাচাই-বাছাই শেষে ৬২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়| আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশি, ৪ জন নেপালি, ১ জন ভারতীয় এবং ১ জন ইন্দোনেশীয় নাগরিক রয়েছেন| তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে|
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অন্য কোম্পানির নামে ইস্যুকৃত অস্থায়ী কর্ম ভিসা (পিএলকেএস) ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন করছিল| তারা মূল নিয়োগকর্তার পরিবর্তে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন, যা ভিসা অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ| এ ঘটনায় দায়িত্বজ্ঞানহীন নিয়োগকর্তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে|
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বিদ্যমান পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা| এর পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে| বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে প্রধান অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, ˆবধ পরিচয়পত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়সীমার বেশি অবস্থান করা এবং পাসপোর্ট ও পারমিটের অপব্যবহার| এছাড়া তদন্তে সহায়তার জন্য তিনটি ‘চার্জ টু উইটনেস’ জারি করা হয়েছে| আটক বিদেশি নাগরিকদের সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপো ও কেএলআইএ-তে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না- তা বিদেশি শ্রমিক হোক কিংবা নিয়োগকর্তা| দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে|




