স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১২ হাজার কোটি টাকা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মে ২০২৬, ৭:৫৬:১৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয়ের অগ্রাধিকার পাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩১ হাজার ২২ কোটি টাকা। তা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৪৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং ‘জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দুটি উদ্যোগকে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য খাতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগ করে আসছে। ই-হেলথ কার্ড ও জাতীয় স্বাস্থ্যবীমার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং ব্যয় কাঠামো আরও স্বচ্ছ হবে। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরং কার্যকরভাবে এই অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি ও অপচয় নিয়ন্ত্রণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় বহু মানুষ চিকিৎসা নিলেও সেবা সন্তোষজনক নয়। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বাদে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেই ঝুঁকছে মানুষ। কিন্তু সেখানেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নানা ভোগান্তি, সঠিক রোগ নির্ণয় করতে না পারা, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভুল রিপোর্টের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। সেই সঙ্গে রোগীকে যথেষ্ট সময় দিয়ে না দেখা, দায়িত্বে অবহেলার কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্যসেবায় অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক মনোভাব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কম। সামর্থ্যবানরা তাই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশে চিকিৎসা নিতে যান।
সূত্রমতে, চিকিৎসাসেবায় জনগণের আস্থা বাড়াতে এ খাতে দক্ষ জনবল দরকার। গবেষণার দিকেও সরকারি নজর দিতে হবে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নও করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। দেশে স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় সংকট এ খাতের প্রয়োজনীয় জনবল। বিশেষ করে ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। সরকারের এসব পদ বিপুল পরিমাণে খালি রয়েছে। পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগুলোর কারণে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সর্বজনীন সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব উদ্যোগ সরকারের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ব্যয়ের ১০টি খাতের জন্য মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এসব খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই খাতগুলোতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এই তালিকায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে। এর পরিমাণ ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্য বড় খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৪৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩৯ হাজার ৭৯ কোটি টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১ হাজার ১০ কোটি টাকা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে ২৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব।




