প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুন ২০২৬, ৮:৪১:৩৭ অপরাহ্ন

আহমাদুল কবির, কুয়ালালামপুর থেকে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে| মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে আসার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে| এই সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পরিসরে ব্যাপক আলোচনা চলছে|
প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দুই দেশের সরকারপ্রধানের ˆবঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের ˆবধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে| একই সঙ্গে সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন তারা|
মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, প্রবাসীদের ¯^ার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে| আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের ব্যাপারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে| মালয়েশিয়া প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন|
মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা| বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের ˆবধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত, ¯^চ্ছ ও কম খরচে কর্মীবান্ধব শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা এলে তা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বড় সুখবর হবে|
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন এবং ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ˆবঠকে অংশ নেবেন| ˆবঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে|
কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে| সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক ˆবঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে|
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সূচি প্রায় চূড়ান্ত| সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন| এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে| মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি আগে ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি|
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি| প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে| এ কারণে সফরটি প্রবাসীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে|
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে| ওই বছর মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দেয়, পূর্ব অনুমোদনপ্রাপ্ত বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ মে’র মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে| এরপর কর্মী ভিসায় নতুন করে বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি| ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজারো কর্মী ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে|
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিকবার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি| পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে| এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিল মাসে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করেন| এরপর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে|
বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয়েছিল ২০০৮ সালে| পরে ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হলেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়| ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে আবারও তা স্থগিত করা হয়|
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা| তাদের বিশ্বাস, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ সুগম হবে, আনডকুমেন্টেড কর্মীদের জন্য ইতিবাচক সমাধান আসবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে| সেই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও বাস্তব রূপ পাবে|




