ইতিহাসের ক্ষণে মেসি, কাল নামছে আর্জেন্টিনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ৯:৩৯:৪৮ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক : কানসাস সিটির ঘাসে পা রাখার আর অল্প সময়ের অপেক্ষা। আলজেরিয়া ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচ দিয়েই ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখাতে যাচ্ছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিজের রেকর্ড গড়া ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে ড্রেসিংরুমের বাইরেও মেসিকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
বলতে হয়, মাইলফলক লিওনেল মেসির জন্য নতুন নয়। তাঁর পায়ে-পায়ে চলে মাইলফলক। এবার বিশ্বকাপে যেমন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মেসি খেললে সেটা হবে আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর ২০০তম ম্যাচ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে কেউই ২০০ ম্যাচ খেলেননি।
তার মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ (১৯৯) ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি মেসির। সবচেয়ে বেশি গোল? সেটাও তো তাঁরই-১১৭ গোল। সে জন্য পেরোতে হয়েছে অনেক দীর্ঘ পথ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে গড়তে হয়েছে ২১ বছরের ক্যারিয়ার। সেই পথে মেসির বয়সও বেড়ে এখন ৩৮ বছর। তাই প্রশ্নটা জাগেই, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ডও কি মেসির?
ইএসপিএনের জনপ্রিয় শো ‘লা কাসা দেল কুনেতে’ বসেছিল তারকা ফুটবলারদের হাট। সার্জিও আগুয়েরোর আমন্ত্রণে সেখানে ছিলেন কার্লোস তেভেজ, মার্সেলো গায়ার্দো, এজেকুয়েল লাভেজ্জি, অস্কার রুগেরি এবং কলম্বিয়ান তারকা রাদামেল ফালকাও। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাত্র ২০ মিনিট খেলেই পেনাল্টি থেকে গোল করা মেসি কি প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই উঠে এলো মেসির ফুটবল দর্শনের ভেতরের গল্প।
মেসির দীর্ঘদিনের রুমমেট ও প্রিয় বন্ধু আগুয়েরো খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই জাদুকরকে। কুন আগুয়েরো বলেন, ‘লিও যত ট্রফিই জিতুক, এমনকি বিশ্বকাপ জেতার পরও অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত সে আরও জিততে চাইবে। কারণ এটাই লিও। সে কখনো রিল্যাক্স করতে জানে না। সে মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতেই নামবে।
আগামী ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসিকে নিয়ে আগুয়েরোর দর্শন, বয়সের কারণে এটাই হয়তো ওর শেষ বিশ্বকাপ। আমি আশা করি ও পরেরটাও খেলুক, তবে ৪২-৪৩ বছর বয়সে খেলাটা কঠিন। যদিও ৪১ বছর বয়সে ক্রিশ্চিয়ানো (রোনালদো) পর্তুগালের হয়ে এই বিশ্বকাপটা খেলছে।
মাঠে তরুণদের গতি যখন আকাশছোঁয়া, সেখানে দাঁড়িয়ে ৩৮ বছরের মেসি কীভাবে পার্থক্য গড়ে দেন? কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার রাদামেল ফালকাও বললেন, সবকিছুর মূলে রয়েছে মেসির অবিশ্বাস্য ফুটবল বুদ্ধি, ‘আজকের দিনের ফুটবল যে তীব্র গতি আর শক্তিতে খেলা হয়, সেখানেও মেসি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে শুধু তার বুদ্ধিমত্তা আর অতুলনীয় দক্ষতার জোরে। মাঠের তরুণরা যখন উড়ছে, তখন মেসির মস্তিস্কই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।’
পাশে বসা কার্লোস তেভেজ এক লাইনে পুরোটা বুঝিয়ে দিলেন, ‘আসল কথা হলো, মেসি সম্পূর্ণ আলাদা একটা জাত (ভিন গ্রহের)।’
সাবেক সতীর্থ লাভেজ্জিও সুর মেলালেন তেভেজের সঙ্গে, ‘ওকে ইতিহাসের সেরা বলা হয়। ওর সঙ্গে আপনি অন্য কার তুলনা করবেন? কোনো তুলনাই চলে না। ও যতদিন খেলতে চাইবে, পার্থক্য গড়ে দেবে। এখন তো ও একটু নিচে নেমে হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে বল বাড়িয়ে দিচ্ছে। আবার ও চাইলে যেকোনো দলের বিপক্ষে গোলও করতে পারে। ওর ক্ষুধাটাই অন্য সবার চেয়ে আলাদা।’
মেসির চোট ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে আগুয়েরো কিছুটা চিন্তিত হলেও চান মেসি শুরু থেকেই খেলুক, ‘আশা করি লিও শুরু থেকেই খেলবে। তবে ভয় একটাই, সামান্য অস্বস্তি থাকলেও জোর করে খেলালে পুরো বিশ্বকাপটাই মাটি হতে পারে। এমন নয় যে লিওকে ছাড়া আমরা খেলতে পারি না, কিন্তু ও মাঠে থাকা মানেই প্রতিপক্ষের বক্সে ২০-৩০ মিনিটে এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া। আমি জানি, ও যদি নিজে ফিট মনে করে, তবে খেলবেই।’
সবশেষে রিভার প্লেটের সাবেক সফল কোচ মার্সেলো গায়ার্দো আলোচনা শেষ করলেন এক অদ্ভুত সুন্দর মন্তব্য দিয়ে, ‘মেসি তার নিজের শরীরকে সবচেয়ে ভালো চেনে। আমার মনে হয়, সে তার ক্যারিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে নেমে ফুটবলটা স্রেফ উপভোগ করে যেতে চায়।’
কানসাসের মাঠে সেই উপভোগের নতুন অধ্যায় দেখতে এখন মুখিয়ে আছে কোটি ফুটবলপ্রেমী।
আর্জন্টেনিা-আলজেরিয়া ম্যাচটি শুরু হবে কাল বুধবার সকাল ৭টায়।




