স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় : সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি ইসির
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩:২৫:৩৩ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : আগামী অক্টোবর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে বলা হয়েছে সরকারকে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পৃথক চারটি চিঠি পাঠিয়ে এসব তথ্য চাওয়া হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিধিমালা চূড়ান্তকরণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ৩১ আগস্টের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এ লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় আলোচনা করে কোন নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে শুরু করা যৌক্তিক।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কোথায় কোথায় সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ বা আইনি জটিলতা রয়েছে, তা জানা যাবে। প্রয়োজন হলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যেসব তথ্য চেয়েছে ইসি
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা পৃথক চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুবিধার্থে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শপথ গ্রহণের তারিখ, প্রথম সভার তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, সীমানা বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন উপযোগী কি না—এসব তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠাতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের সীমানা এবং ওয়ার্ড বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।
বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরিষদের মেয়াদ পর্যায়ক্রমে শেষ হওয়ায় ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন (ইসি)।
‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ সংক্রান্ত এক গেজেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ৯ জুলাই নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত নীতিমালায় সংশোধিনী এনে একটি গেজেট জারি করে।
নীতিমালার সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আগে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের তালিকা ভোটগ্রহণের ১৫ দিন আগে চূড়ান্ত করতে হতো। এখন তার পরিবর্তে ২৫ দিন পূর্বে চূড়ান্ত হবে।
এছাড়া আরও বলা হয়, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে আগে যেখানে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকতো, নতুন নিয়মে সেটি বাড়িয়ে প্রতি ৬০০ পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
একইভাবে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে। আগে উপনির্বাচনে কোনও একটি পদে ভোটের জন্য ৫০০ পুরুষ এবং ৪০০ নারী ভোটারের বিপরীতে একটি কক্ষ ব্যবহৃত হতো। এখন সাধারণ নির্বাচন বা উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ পুরুষ এবং ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকবে।
এদিকে চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজনে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস তৈরি করা যাবে বলেও নতুন নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া পূর্বের নিয়ম বহাল রেখে জানানো হয়েছে, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার ভেতরেই একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে একই ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্রও স্থাপন করা যাবে।






