রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ইসির প্রস্তুতি শুরু
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুলাই ২০২৬, ৮:০২:০৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)| জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ও পরবর্তী কার্যক্রম চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের| একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু হবে|
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে ˆবঠকের পর নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন| এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে| তবে অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়ো কিংবা বিল¤^ কোনোটি করা হবে না|
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের| ৯০ দিনে মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করতে হবে| প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ নির্বাচনের নির্বাচনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন| নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ সদস্যদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও গেজেট প্রকাশ করে কমিশন| এরপর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয়|
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হবে| একই সঙ্গে মনোনীত ব্যক্তির লিখিত সম্মতিও জমা দিতে হবে| তবে কোনো সংসদ সদস্য একটির বেশি মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারবেন না|
মনোনয়ন যাচাই শেষে যদি মাত্র একজন ˆবধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন| আবার একাধিক ˆবধ প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে| প্রত্যাহারের পরও যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে|
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণ থাকে না| জাতীয় সংসদের সদস্যরাই এ নির্বাচনের ভোটার| সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ˆবঠকে তারা প্রকাশ্য ভোট দেন| প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে এবং ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে পূর্ণ ¯^াক্ষর দিয়ে ভোট প্রদান করতে হয়| ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করেন| সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন| তবে দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে| নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়|
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সমর্থিত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন| বিরোধী দল বা ¯^তন্ত্র সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রার্থী না এলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়| অতীতেও রাষ্ট্রপতি এভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন| আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের আগামী সেপ্টে¤^র অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে|






