লোডশেডিংয়ে নাকাল শান্তিগঞ্জ
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জুলাই ২০২৬, ৮:২০:০৩ অপরাহ্ন

আলাল হোসেন, শান্তিগঞ্জ : প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। বিদ্যুতের ঘন ঘন যাওয়া-আসায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রামের প্রায় ৩৬ হাজার গ্রাহক এই সংকটে ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও প্রবীণদের কষ্ট বেড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধার্থে উপজেলার ৮ ইউনিয়নের গ্রামগুলোকে ৬টি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। উপজেলা সদর এলাকার ১ নম্বর ফিডারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ ও থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেশি দেওয়া হয়। তবে অন্যান্য ফিডারের গ্রাহকদের নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।
কম্পিউটার ও বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সজীব আচার্য্য, সজিব আহমদ ও সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিনসহ কোনো যন্ত্রই চালানো যাচ্ছে না। আইপিএসের চার্জও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে আয় কমে যাওয়ায় ব্যবসার কিস্তি ও সংসার খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা, নাছুহা কবির ও জাকারিয়া ইসলাম রাতুল জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন তাহিরুন নেছাও লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চার দিন হাসপাতালে অবস্থানকালে প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
পাথারিয়া ইউনিয়নের এইচ এম নাছির, সাব্বির আহমদ, নোয়াখালী এলাকার আলী আহমদ দুলাল এবং পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কামাল হোসেন ও নাঈম আহমদ বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান হচ্ছে, রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।
শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশ। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪০ থেকে ৪৯ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় ঘাটতি আরও বেড়ে যায়। উপজেলায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে পুরো সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের বিশাল ব্যবধানের কারণে লোডশেডিং কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম রাসেল আহমদ বলেন, লোডশেডিং এখন জাতীয় সমস্যা। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এক ঘণ্টা লাইন চালু রাখলে পরের এক ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উপজেলা সদরের জরুরি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।






