কুশিয়ারার দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জলমগ্ন ৩০ গ্রাম, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর ও সদর উপজেলার কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী প্রায় ৩০টি গ্রাম দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে এখনও জলমগ্ন রয়েছে। মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি কমলেও কুশিয়ারার পানি এখনও বিপদসীমার আশপাশে ওঠানামা করায় প্রায় ১ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ যুগ ধরে নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মাসের পর মাস বসতভিটা পানিতে ডুবে থাকে, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে শত শত বাড়িঘর বিলীন হয়েছে।
জলমগ্ন গ্রামের মধ্যে রয়েছে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বকশিপুর, ছিক্কাগাঁও, কামালপুর, আমনপুর, সুরিখাল, যুগিকোনা, কেশরপাড়া, সুনামপুর, উমরপুর, কান্দিগাঁও, জোড়াপুর ও রামপুর; ফতেপুর ইউনিয়নের সাদাপুর, হামিদপুর, বেড়কুড়ি, শাহাপুর, জাহিদপুর, আব্দুল্লাহপুর, রশীদপুর ও ইসলামপুর; সদর উপজেলার মনূমুখ ইউনিয়নের মনূমুখ, চাঁনপুর, সেওয়াইজুরি এবং খলিলপুর ইউনিয়নের নতুন বস্তি, ব্রাহ্মণগ্রাম, হামরকোনা, নাদামপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রাম।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কুশিয়ারা নদী খনন করে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক করা, খননকৃত মাটি দিয়ে জলমগ্ন গ্রামগুলো ভরাট এবং নদীতীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া জিওব্যাগের পরিবর্তে স্থায়ী ব্লক স্থাপনেরও দাবি জানান তারা। সরেজমিনে রাজনগরের সুনামপুর ও শাহাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি কিছুটা কমলেও রাস্তা-ঘাট ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সলিং সড়কের ইট উঠে গেছে এবং অধিকাংশ বাড়িঘর ও আঙিনায় এখনও বন্যার ক্ষতচিহ্ন রয়ে গেছে। নদীর পানি ওঠানামা করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহদি হাসান বলেন, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় প্রবল স্রোতের পানি বসতিতে ঢুকে পড়ে। এতে রাস্তা-ঘাট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়ামীর আলী বলেন, নদী খনন করা হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে এবং নদীপাড়ের গ্রামগুলো দীর্ঘস্থায়ী বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিল অলীদ বলেন, বর্ষাকালে কুশিয়ারা নদীতে পানি থাকবেই। বন্যা থেকে রক্ষা পেতে উঁচু করে বাড়ি নির্মাণের পরামর্শ দেন তিনি। নদী খননের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। শুধু মৌলভীবাজার নয়, সিলেট, হবিগঞ্জসহ কুশিয়ারা তীরবর্তী সব জেলায় সমন্বিতভাবে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।






