ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলবে কবে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ৮:০৪:২৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে ডিজিটাল ব্যাংক নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। দুই দফায় আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, পরিবর্তন আনা হয়েছে নীতিমালায়, চূড়ান্ত অনুমোদন বা লাইসেন্স নিয়ে ঝক্কি-ঝামেলাও হয়েছে। কিন্তু চালু হয়নি ডিজিটাল ব্যাংক, কবে সেবার পাবেন গ্রাহকরা সেটিও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
দেশে ডিজিটাল ব্যাংক কবে আসবে এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, দ্বিতীয় দফায় যে আবেদনগুলো জমা পড়েছিল, সেগুলোর মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যায়ন শেষ হলে কমিটি সেই প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দেবে। গভর্নর তা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সভায় উত্থাপন করবেন। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।
আলোচিত ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সবশেষ ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি অংশীদারত্ব আছে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন প্রতিষ্ঠানও আছে যাদের অন্য দেশে ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। আবেদনকারীদের তালিকায় আছে বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকের অংশীদারত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানও। ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।
দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওই বছরের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা ঘোষণা করে। ওই নীতিমালার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম দফা ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব বা আবেদন আহ্বান করে। ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন লাগবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছিল। নীতিমালার আলোকে ওই বছরের ২০ জুন আগ্রহীদের থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে তিন ধাপে আবেদন মূল্যায়ন করে ৯টি প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিচালনা পর্ষদের সভায়।
তবে নগদ ও কড়ি ছাড়া বাকি সাতটি আবেদনের মধ্যে স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক এবং জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংককে পরে এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট বা আগ্রহপত্র) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন বিকাশ, ডিজি টেন এবং ৩৬টি ব্যাংককে আলাদা ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স না দিয়ে ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং’ খোলার অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আবেদন নাকচ করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুনে নগদ ব্যাংক পিএলসিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৩ সালের অগাস্টে নগদ ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির নামে এলওআই দেওয়া হয়। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাচারের টাকায় বিদেশে কোম্পানি খুলে এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অভিযোগ সামনে আসে। এ কারণে নগদ ব্যাংক পিএলসির লাইসেন্স স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর কড়ির নামে এখনও লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।
অন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে আবেদনপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২১ আগস্ট এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ২০২৩ সালের ১৪ জুনের নীতিমালা অনুযায়ী যা ছিল ১২৫ কোটি টাকা। নীতিমালার অন্য সব শর্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনের আলোকে ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে।
আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ১২টি কোম্পানি মিলে গঠন করা ‘ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, ২২টি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সংস্থা মিলে প্রস্তাব দেওয়া ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২’, ব্যক্তি পর্যায়ে সামষ্টিকভাবে আবেদন করা ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, মোবাইল কোম্পানি রবি আজিয়াটার ‘বুস্ট’, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী মিলে ‘আমার ব্যাংক’, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের ‘অ্যাপ ব্যাংক’, বাংলালিংক ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা আশা এর ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, আকিজ রিসোর্সের ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক’, ব্র্যাক ব্যাংকের মালিকানাধীন বিকাশের ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’, ডিবিএল গ্রুপের ‘জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক’, আইটি সলিউশন লিমিটেডের ‘উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক’।






