শঙ্কা কাটেনি : কুশিয়ারার পানি বেড়েছে, সুরমায় স্থিতিশীল
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৫:২২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে সিলেটে কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে, তবে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও প্লাবন অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে পানির উচ্চতা ৯.৫৬ মিটার, যা বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপরে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের মাত্র দুটি স্টেশন বিপদসীমার ওপরে রয়েছেÑগাইবান্ধার তিস্তা নদীর তারাপুর এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশন।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি সন্ধ্যা ৬টায় ৯.৭৬ মিটার, যা এখনও বিপদসীমার নিচে। তবে কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকায় কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কের কিছু অংশ এখনও পানির নিচে রয়েছে।
এদিকে সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। অনেক স্থানে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৪.৮ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কুশিয়ারা নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী দুই দিনে সিলেট বিভাগ ও উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






