চালুর পথে একধাপ এগোলো সুনামগঞ্জ মেডিকেল
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন
সাড়ে ৩৩ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর পথে আরও একধাপ এগিয়েছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগের জন্য প্রায় ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব সরঞ্জামের মধ্যে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, জরুরি বিভাগ, সার্জারি, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ক্যানসার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ‘সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদের আওতায় মোট ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে এসব যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এর মধ্যে প্যাকেজ জিডি-১০-এর লট-৫-এ ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫১১ টাকা এবং লট-৩-এ ১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৬৭ টাকা ব্যয় হবে।
লট-৫-এর আওতায় স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, চর্মরোগ, রক্ত পরিসঞ্চালন, শ্বাসতন্ত্র, মনোরোগ, দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি এবং দুর্ঘটনা ও জরুরি বিভাগের সরঞ্জাম কেনা হবে। আর লট-৩-এর আওতায় সার্জারি, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হবে। দুটি লটেই সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য নির্বাচিত হয়েছে মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। সে সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধন করা হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর মৌজায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে মদনপুর পয়েন্ট এলাকায় ২০২০ সালের মার্চে ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় ২০টি ভবনের মধ্যে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, অডিটোরিয়াম, ছাত্রাবাস, ডক্টরস ডরমিটরি ও আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষের দিকে। ২০২১ সালে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে মেডিকেল কলেজের পাঠদান শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালে নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।
তবে নতুন ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত অগ্রগতি হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় ক্লিনিক্যাল শিক্ষায় সংকট রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাঁচটি ব্যাচের প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ক্লিনিক্যাল ক্লাসও নিয়মিত হচ্ছে না। গত জুনে হাসপাতাল চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালুসহ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও তাদের অভিযোগ, বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়েছে। এখন হাসপাতালটি কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।






