ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে সব সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে সিসিক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৯:০০ অপরাহ্ন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরের পূজামণ্ডপগুলোর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে সিটি করপোরেশন সব সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, মহালক্ষ্মী মন্দিরে কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। তাই নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সিলেট নগরে ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব মণ্ডপের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজিত পূজাগুলোতেও যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখছে সিসিক। পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহায় নগর পরিচ্ছন্ন রাখা ও বর্জ্য অপসারণে সিসিক যেভাবে কাজ করেছে, দুর্গাপূজার আগেও এবং পূজা চলাকালীন মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে একইভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পূজা শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় উৎসব কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের একার বিষয় নয়, এটি সবার উৎসব। জন্ম, ধর্ম বা পরিচয়ের ভেদাভেদ না করে নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো পূজামণ্ডপে বা পূজা আয়োজনে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে দ্রুত সিটি করপোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিসিকের হটলাইন, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। পূজা চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, সাধারণ সম্পাদক জনার্দ্ধন চক্রবর্তী মিন্টু, সহসভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, চন্দন দাস ও মিন্টু দাস, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত কর, উপদেষ্টা অধ্যাপক প্রতাপ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নন্দন পাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোজ তালুকদার, লাভলু দেব, নান্টু দাস, অহিভূষণ দেব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গৌছ উদ্দিন পাপ্পু, শুভংকর দাস, নিরু দেব এবং সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেবসহ অন্যরা।





