সিলেটে ‘স্ট্রং ওপিডি’ প্রকল্পের যাত্রা : প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় ফেরানোর অঙ্গিকার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১০:৪৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সাংগঠনিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত এবং সমাজের মূলধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থবহ অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্যে সিলেটে শুরু হলো অর্গানাইজেশন অব পারসন উইথ ডিজেবল (স্ট্রং ওপিডি) প্রকল্পের পথচলা।
এ উপলক্ষে বুধবার নগরের একটি অভিজাত হোটেলের ‘স্ট্রেনদেনিং রাইটস-বেসড লিডারশিপ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব অর্গানাইজেশনস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের পরিচিতি ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) ও সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশনের সহযোগিতায় তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এম এ রফিক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রউফ শাহ, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সিলেট জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ রায়, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
প্রকল্পের লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম তুলে ধরেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সেলিম রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিআরপি সিলেটের সেন্টার ম্যানেজার নাহিদ হোসাইন। প্রকল্পের ওপিডি কো-অর্ডিনেশন কর্মকর্তা মো. তুহিনুজ্জামান সভাটি সঞ্চালনা করেন। সিআরপির টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর রাহমাতুল বারি প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও কারিগরি সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদা সুলতানা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক বোঝা হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা নিজেদের কখনো বোঝা হিসেবে দেখব না, নিজেদের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলব।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক সেলিম রহমান বলেন, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁদের নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করে গড়ে তুলতে কাজ করব। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত ৬টি সংগঠনের নেতৃত্ব বিকাশ, সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হবে।
সিআরপির টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর রাহমাতুল বারি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার মানুষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এম এ রফিক বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম যেন সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রউফ শাহ জানান, প্রতিবন্ধী যুবকদের জন্য তাঁর দপ্তরের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকারভিত্তিতে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় ইউএন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি), ব্র্যাক, ইউসেপ বাংলাদেশ, অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব), বিভিন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





