তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজদের নিয়ে আইনি জটিলতায় পুলিশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২২:৩২ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ৫৪৫ জন সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের তালিকা তৈরি করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। তবে তালিকা ধরে অভিযান চালাতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ছে পুলিশ ও এসআরবি। গ্রেপ্তারের পর কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে- এ নিয়ে দেখা যাচ্ছে জটিলতা। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির নতুন কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে সংকটে পড়ছে পুলিশ। এমন প্রেক্ষাপটে তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করা যায় কিনা তার আইনি সম্ভাবতা খতিয়ে দেখছে সরকার। এ ধরনের উদ্যোগের আইনি ভিত্তি, প্রয়োগের ক্ষেত্র এবং প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের নির্দেশ পেলে পুলিশ বাদী হয়ে বাংলাদেশ দন্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। বিশেষ করে যাদের নাম তালিকায় রয়েছে এবং চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না, তখন পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
জানা গেছে, ৫৪৫ জন সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের তালিকার একটি বড় অংশই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। ফলে তারা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলেও ভুক্তভোগীরা চাঁদাবাজির মামলা করতে ভয় পান। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া তালিকাভুক্তদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। আবার কারও কারও সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, এমপিসহ প্রভাবশালীদের সখ্য রয়েছে। এতে তালিকাভুক্তদের গ্রেপ্তারে দ্বিধায় পড়ছেন মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনাকারীরা। পরবর্তী সময়ে বিপদে বা রোষানলে পড়ার ভয় পাচ্ছেন পুলিশের কেউ কেউ। আবার গ্রেপ্তারের পর চাঁদাবাজির মামলা না থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে জটিলতায় পড়ছেন। ফলে তাদের পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে তারা জামিনে বেরিয়ে আসছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পর অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা ঘটলে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে এমন অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। শুধু তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে পরে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়কে অবহিত করা হয়েছে। যার ফলে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার দিকটিও ভাবছে সরকার।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সন্দেহভাজন চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করাই শেষ কথা নয়; তালিকার তথ্য যাচাই করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই, মামলা ও গ্রেপ্তারের আইনি প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবের বাইরে থেকে অভিযান পরিচালনা করা।





