জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন হয়নি: এবি পার্টি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৩:২৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে একদিন রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণভোটের রায় কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, তার জবাব জনগণ জানতে চায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অস্বীকার করার পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে বর্তমান সরকারও ইতিহাসে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের মতো নেতিবাচক চরিত্রে পরিণত হতে পারে। ভবিষ্যতে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানও গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকার উল্টো পথে হাঁটছে এবং বাক্স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংশোধনী কমিটি গঠনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে না। উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবও ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জনগণ বিজয়ী হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সাইবার সুরক্ষার মতো বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক না বাড়িয়ে সংস্কার বাস্তবায়নে এগোতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কার্যকর সংস্কার না হলে দেশে আবারও গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জনগণ বিচার ও সংস্কার চায়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহির অভাবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক অতীতের রাজনৈতিক সংকট ফিরিয়ে আনতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কার্যকর সংস্কারের অভাব অর্থনৈতিক সংকট এবং বিনিয়োগে অনাগ্রহ বাড়াচ্ছে। অর্থবহ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে দেশ আরও পিছিয়ে পড়বে।
সভায় এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স এবং এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।






