খাসিয়ামারা নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে ঘরবাড়ি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জুলাই ২০২৫, ৮:১০:৪৩ অপরাহ্ন

দোয়ারাবাজার সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর ও জনপদ। নদীর বুকে একের পর এক গ্রাম হারিয়ে যাচ্ছে, আর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন শত শত মানুষ।
টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নদীর প্রবাহ বদলে গিয়ে গ্রাস করছে গ্রামের পর গ্রাম। বিশেষ করে সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা ও টিলাগাঁও-এই তিনটি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও বসতঘর নদীতে ধসে পড়ছে, কোথাও আবার ফসলি জমি, বাগান আর পুকুর হারিয়ে যাচ্ছে একেবারে চিরতরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলীপুর বাজার, নির্মাণাধীন খাসিয়ামারা সেতু, আলীপুর নূরানী কিন্ডারগার্টেন, এবং টেংরাটিলার বাসিন্দা আব্দুল করিম ও আব্দুর রহিমের বসতভিটা, জমি ও পুকুর ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। আলীপুর গ্রামের কিছু পরিবার এরই মধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে ভয় বাড়ছে প্রতিদিন।
টেংরাটিলার আব্দুল করিম বলেন, আমার বাড়ির অর্ধেকটাই নদীতে চলে গেছে। এভাবে চললে আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির অনেকটা নদীতে চলে গেছে। এখন পুকুর আর ঘরটা রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তা।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে পুরো জনপদই হুমকির মুখে পড়বে। আমরা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি।
পাউবো দোয়ারাবাজারের এসও সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হবে।







