সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানছেন না উর্ধ্বতনদের
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুলাই ২০২৫, ৭:২৭:১৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান সরকারের মাঠ প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেক জায়গায়ই কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে পতিত ফ্যাসিস্টদের পক্ষ নিয়ে লোকজনকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সচিবালয় থেকে নিয়ে এনবিআর অফিস পর্যন্ত অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা এসব প্রশ্নের অবতারণা করেছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের আইন অমান্য বা চেইন অব কমান্ড ভাঙার ধৃষ্টতা একেবারে মাঠ পর্যায়ে চলে এসেছে। অনেক কর্মকর্তাই উর্ধ্বতনদের কথা শুনছেন না। এসব ধৃষ্টতার চরম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা জেরিন।
জানা যায় গত ৩০ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহমদ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পরিদর্শনে যান। তার পরিদর্শনকালে ইউএও তাকে রিসিভ করেননি, কোনো প্রটোকল দেননি, কোনো যোগাযোগ করেন নি এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে রাখেন। কিন্তু ফারুক আহমদের এই পরিদর্শন পূর্ব নির্ধারিত ছিল। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের এই ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ায় স্থানীয় সরকার পরিচালক তাদের ক্ষমা করে দেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেরিন কয়েকদিন অপেক্ষা করার পরও কোনো যোগাযোগ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এরকম আচরণ সরাসরি চাকরি বিধি লঙ্ঘন এবং অপরাধ। তার এই আচরণে বর্তমান সরকারের মাঠ প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা কোন পর্যায়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহমদ গত ৭ জুলাই প্রেরিত একটি চিঠির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর ইউএনও সুলতানা জেরিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন- সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সিএ ও নাজির এর সাথে পরিদর্শনের বিষয়ে আলাপ করেন এবং কুরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাথেও আলোচনা করেন। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সুনামগঞ্জ সদর সুলতান জেরিন সম্মতি জানান। কিন্তু পরিদর্শনের দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইচ্ছাকৃতভাবে পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়ার জন্য কুরবান নগরের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম ও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিতালী বেগম তালুকদারকে উপজেলায় নিয়ে বসিয়ে রাখেন। পরিদর্শনকৃত তারিখে জাউয়া যাওয়ার পর উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ফোনে জানান যে, পরিচালক মহোদয় প্রথমে কুরবান নগর ইউপি এবং পরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ পরিদর্শন করবেন। বিষয়টি জানানোর পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিচালককে প্রটোকল বা রিসিভ করেন নাই। উপরন্তু কুরবাননগর ইউপিতে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় দুইজন নির্বাচিত সদস্য ও গ্রাম-পুলিশ উপস্থিত রয়েছেন। উনাদের উপস্থিতিতে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত হন। উনাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সুনামগঞ্জ সদর তাদেরকে জানান যে, পরিচালক স্যার নাও আসতে পারেন অথবা মোল্লারগাও যেতে পারেন। এইসব কথা বলে উনাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তারা অনুতপ্ত হন এবং ক্ষমা চান তখন পরিচালক তাদের ক্ষমা করে দেই। উল্লেখ্য যে, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন দোষ ছিলো না। ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন শেষে উপজেলা আসার পথে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব প্রবীর কুমার দাস, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়কে জানান আপনারা এখনও কোন যোগাযোগ করেন নি। তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে জানান আমরা এখন উপজেলা পরিষদ পরিদর্শনে আসছি।
উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত নেই। তাদের জানালে তারা নিজ নিজ কক্ষ থেকে আসে। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সুনামগঞ্জ সদর জনাব সুলতানা জেরিন-কে অফিসে পাওয়া যায় নি। জিজ্ঞাসাবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান ৫-৭ মিনিট পূর্বে তিনি কোথায় চলে গেছেন তা উনারা জানেন না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান যে, উপজেলায় কোন সভা ছিল না।
চিঠিতে আরও কয়েকটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদারহণ টেনে যারা এরকম আচরণ করছে তাদের স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।







