সড়ক যোগাযোগে হাওরপাড়ের লাখো মানুষের দুর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ আগস্ট ২০২৫, ৭:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের কান্না আজো কেউ শুনেনি। শিক্ষা-স্বাস্থ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে আজো পিছিয়ে রয়েছে হাওরবেষ্টিত এই উপজেলাবাসী। চরম উদাসীনতা ও বৈষম্যহীনতায় বিগত সরকারের আমলেও জামালগঞ্জের কাঙ্খিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আলোর মুখ দেখেনি উপজেলাবাসী। বিশেষ করে জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সুরমা নদীতে সেতু নির্মাণ দাবি ও জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়ক পথ নির্মাণ দাবি আজো স্বপ্ন হয়ে রয়েছে হাওরপাড়ের ২ লাখ মানুষের।
জামালগঞ্জ থেকে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরপাড়ের লাখো মানুষের চরম দুর্ভোগ আর দুর্দশা যেন পিছু ছাড়েনা। এই সড়কে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছেন প্রতিদিন। কবে আলোর মুখ দেখবে তা প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে জনসাধারনের কাছে।
জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কে জামালগঞ্জের ২ লাখ মানুষ ছাড়াও ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কিয়দাংশ যাত্রীরাও সিলেট-সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করেন। দিরাই রাস্তার মোড়ে কাঠইর নামক স্থানের রাস্তা থেকে জামালগঞ্জ সদর হেড কোয়ার্টার পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, ভাঙ্গা ও খানাখন্দের কারণে যাত্রী চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সড়কের জামালগঞ্জের প্রবেশদ্বার নোয়াগাঁও থেকে উজ্জ্বলপুর, শাহাপুর, জামালগঞ্জ নতুনপাড়া নামক স্থানে ভাঙ্গা সড়ক ও ইট সলিং এর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এই স্থানটি এখন যাত্রীদের মরনফাঁদে পরিণত হচ্ছে। যে কোন মুহূর্তেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন যে কেউ। গত ২২ সালের বন্যায় উজ্জ্বলপুরের অংশ ভেঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুই তীরে খেয়া পাড় হয়ে দুই ভাগে চলাচল করেছেন যাত্রীরা। গত বছর কিছুটা চলাচলের উপযুক্ত করা হলেও বর্ষায় এই উজ্জ্বলপুরের অবস্থা আরো নাজুক হয়ে যায়। চলাচলে যাত্রীদের শংকা কাজ করে। অবশ্য চলতি বছর যৎ সামান্য খানাখন্দ ভরা হলেও তা আশানুরূপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন যাত্রীরা।
জামালগঞ্জ থেকে কোন রোগীকে সুনামগঞ্জ কিংবা বিভাগীয় শহর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হলে চরম দুর্দশায় পড়তে হয় রোগীর স্বজনদের। স্থানীয় গাড়ি চালক ও যাত্রীরা জানান, এই সড়ক তাদের জীবনের গতিশীলতা কমিয়ে দিয়েছে। চরম দুর্ভোগ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে তাদের।
এছাড়া জামালগঞ্জ সদরের নতুনপাড়ার মূল সড়কের ইট সলিং, নয়াহালট ও উত্তর কামলাবাজ গ্রামের অভ্যন্তরীন সড়ক ও উপজেলা থেকে গ্রামীণ সড়কগুলো সংষ্কার না হওয়ায় রোগী, বয়ষ্ক মানুষ, শিশু ও গর্ভবতী মা’দের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালে বন্যার পর থেকে দুই বছরেও সড়কে যান চলাচল উপযোগি করতে সরকারিভাবে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এলজিইডির মাধ্যমে কামলাবাজ সড়কের কিছুটা কাজ হলেও নয়াহালট পূর্ব পাড়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ এখনো হয়নি।
এদিকে, জামালগঞ্জ-মন্নানঘাট সড়কেও বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এই সড়কে বেশীরভাগ ভাঙ্গা ও খানাখন্দে ভরা। তবুও মানুষ চলছে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে। উপজেলার সেলিমগঞ্জ বাজার থেকে গজারিয়া বাজারের যাতায়াতেও দুর্ভোগের শেষ নেই। নোয়াগাঁও বাজার থেকে ভীমখালী বাজার হয়ে হাসনাবাজ-মল্লিকপুরের গ্রামীণ সড়কটিও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। সাচনাবাজার থেকে দুর্লভপুর পর্যন্তও সড়কের বেহালদশা হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো: সানোয়ার হোসেন বলেন, ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই সড়কের জামালগঞ্জ অংশের জরুরী মেরামতের কাজ কিছুটা করেছি। সম্প্রতি ঢাকা থেকে এলজিইডির ডাইরেক্ট এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। আমরা জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কে জামালগঞ্জ অংশ ও জামালগঞ্জ-মন্নানঘাট সড়কের সকল মেজারমেন্ট করে ফাইল পাঠিয়েছি। আশা করি এই প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন হলেই টেন্ডার প্রকৃয়া আসবে এবং খুব শীঘ্রই আমরা এই কাজ শুরু করতে পাড়বো।






