সুনামগঞ্জে ৮৬ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ : সুষ্ঠু তদন্তের দাবি বিএনপির
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৫:৫৯ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ওভার এস্টিমেট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাবঠিকাদার শফিকুল ইসলামের করা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
রোববার দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বিভাগের জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর ব্রিজের ১ ও ২ নম্বর অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদার ছিলেন ঢাকার আওয়ামী লীগ-সমর্থক বদরুল ইসলাম (ইসলাম ট্রেডার্স)। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পালিয়ে গেলে প্রথমে সাবঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসেন। পরে দ্বিতীয় সাবঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পান বিভিন্ন মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম।
প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলনে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে দাবি করে মিলন বলেন, মাত্র ৪০ কোটি টাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব-এমন কাজের জন্য প্রায় ৮৭ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যেখানে মাটির কাজের প্রয়োজন প্রায় সাত লাখ ঘনফুট, সেখানে প্রাক্কলনে দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি মাটির কাজ দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২৭ অক্টোবর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল সড়কটির কাজ পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি দেখতে পান, সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল হেলে পড়েছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, মাটির যথাযথ কম্প্যাকশন ছাড়াই জিও টেক্সটাইলের ওপর ব্লক বসানো হচ্ছে এবং ভিটবালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহার করা হচ্ছে।
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, এসব অনিয়ম তদন্তের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে পরদিন পুনরায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল। কিন্তু এর পরপরই সাবঠিকাদার শফিকুল ইসলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনাকে ‘সংঘবদ্ধ তথ্যসন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে মিলন বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, নির্মাণকাজের মান ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরে নুর আলী, রেজাউল হক, নাদির আহমেদ ও আ. ত. ম. মিসবাহ প্রমুখ।





