নবীগঞ্জের হাওরে সোনালি ধানের ঢেউ
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৩১:৩৮ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: অগ্রহায়ণ মাস শুরু হতে এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জোয়ালভাঙ্গা হাওরে লেগেছে আগাম অগ্রহায়ণের আমেজ। দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। বাতাসে দুলছে পাকা ধানের শীষ। কৃষকের চোখেমুখে ফসল ঘরে তোলার আনন্দ।
নবীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি জোয়ালভাঙ্গা হাওর। প্রায় চারটি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের জীবিকা ও বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন এই হাওর। উপজেলার দীঘলবাক, আউশকান্দি, কুর্শি ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকেরা বছরের পর বছর ধরে এ হাওরে বোরো ও আমন ধানের আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সরেজমিনে হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ সোনালি রঙে ছেয়ে গেছে। অনেক জমির ধান পুরোপুরি পেকে গেছে। কোথাও কাস্তে হাতে ধান কাটছেন কৃষকেরা, কোথাও চলছে ধানের আঁটি বাঁধার কাজ। কেউ মাথায়, কেউ কাঁধে করে পাকা ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। হাওরের বিভিন্ন স্থানে চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজও।
জোয়ালভাঙ্গা হাওরের তীরবর্তী কারখানা গ্রামের কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলনও খুব ভালো হয়েছে। জোয়ালভাঙ্গা হাওরই আমরার সব। এই হাওরের ধান দিয়াই বছর চলে। সোনালি ধান দেখলে মনের কষ্ট দূর হয়ে যায়।
বোয়ালজুর গ্রামের কৃষক মোজাহিদ মিয়া বলেন, অগ্রহায়ণ মাস কৃষকের উৎসবের মাস। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধানের দাম কম। প্রতি মণ ধান ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাওরের আশপাশের প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ এই ধানের ওপর নির্ভরশীল। ধানের ভালো দাম পেলে আমাদের সারা বছরের পরিশ্রম সার্থক হবে।
দীঘলবাক ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, জোয়ালভাঙ্গা হাওর অনেক বড় একটি জলাভূমি। এটি চারটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় এককভাবে এ হাওরের ধান উৎপাদনের পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সরকারিভাবে কৃষকদের আমন চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জোয়ালভাঙ্গা হাওরে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো সার ও বীজ পাওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
হাওরপারের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ার আগেই কৃষকেরা যেন নির্বিঘ্নে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেন। তাহলেই তাঁদের সারা বছরের পরিশ্রম ও প্রত্যাশা পূরণ হবে।
জোয়ালভাঙ্গা হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ধানের অপরূপ দৃশ্য শুধু কৃষকদেরই নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদেরও মুগ্ধ করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও অগ্রহায়ণের আগমনী বার্তা নিয়ে সোনালি ধানের এই হাওর নবীগঞ্জের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি





