নবীগঞ্জের হাওর-বিল কচুরিপানায় ঘেরা, দুশ্চিন্তায় কৃষক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৭:১৬ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : দিন বদলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাওর-বিলের চিত্র। একসময় এসব হাওর-বিলে বোরো ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজারো কৃষক। কার্তিক মাসের শুরু থেকেই বোরো ধান উৎপাদনের প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি ও জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন তাঁরা। কিন্তু এবার হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর-বিলে কচুরিপানার বিস্তারে বোরো চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকার বোরো কৃষক এবার জমি প্রস্তুত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁদের উদ্বেগের প্রধান কারণ, বোরো চাষের উপযোগী জমির বড় একটি অংশ কচুরিপানায় আচ্ছাদিত। এসব কচুরিপানা পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ ও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে। ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত কতটুকু লাভ থাকবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন মৌজার অধীন ছোট-বড় হাওর ও বিল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বোরো জমি কচুরিপানায় ঢেকে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে বন্যা ও বৃষ্টির পানি সহজেই নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু এবার বিভিন্ন হাওর-বিলে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কচুরিপানার বিস্তার বেড়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত কৃষকেরা শ্রমিক দিয়ে জমি পরিষ্কার করে চাষাবাদ শুরু করতে গিয়ে বাড়তি দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন।
কৃষক সুলেমান জানান, দিন দিন দ্রব্যমূল্য ও কৃষিকাজের ব্যয় বাড়ছে। অথচ কৃষকের প্রধান ভরসা ধানের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। এ অবস্থায় বাড়তি মজুরি দিয়ে বোরো জমি থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এবার বোরো চাষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, হাওর-বিল, খাল ও জলাশয়ে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ কেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবৈধ দখল কিংবা অনিয়মের কারণে জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, হাওর-বিল ও খালগুলোর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা স্বাভাবিক করা না গেলে কচুরিপানার বিস্তার এবং বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত কৃষকেরা। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, হাওর-বিলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বোরো আবাদ নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।





