দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা :জুলাই অভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বাহিনী ‘ভুল’ করেছিল
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৪:১০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বীকার করেছেন, গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী ‘অবশ্যই ভুল’ করেছিল।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। খবর আউটলুক ইন্ডিয়ার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা।
দেশে আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে তার ‘সন্দেহ’ আছে। আর যদি নির্বাচন হয়, তবুও তার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় সেই নির্বাচন ততটা বৈধ বলে বিবেচিত হবে না।
তবে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, তিনি তার সমর্থকদের নির্বাচন বয়কট করার জন্য আহ্বান জানাননি এবং ‘সহিংস আন্দোলনের’ বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সহিংস পরিস্থিতিতে সাড়া দিচ্ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য সহিংসতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপে অবশ্যই ভুল করেছে। তবে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তগুলো ছিল আনুপাতিক প্রকৃতির, সৎ বিশ্বাসে নেওয়া এবং প্রাণহানি কমানোর উদ্দেশ্য থেকে।’
শেখ হাসিনা যখন এসব মন্তব্য করলেন, তখন ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তার এবং তার ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর শেখ হাসিনাই ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতাকারীদের বিচারের জন্য এই আইসিটি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচার নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতে দোষী সাব্যস্ত করে রায় পূর্ব থেকে নির্ধারণ করা আছে। যখন এটি দেওয়া হবে তখন আমি অবাক হব না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হলো আমার রাজনৈতিক শত্রুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি ভুয়া ট্রাইব্যুনাল, যারা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চায়। মৃত্যুদণ্ডের দাবিও একই উদ্দেশ্যে তোলা হয়েছে। তবে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ আদালতের সামনে দাঁড়াতে ভয় পান না বলেও জানান শেখ হাসিনা।





