ভয়ঙ্কর রূপে হাম: সিলেটে আরো ৪ শিশুসহ ৫১ মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মে ২০২৬, ১২:২২:৫০ অপরাহ্ন
সারাদেশে মৃত্যু ৫০০ ছাড়িয়েছে
স্টাফ রিপো
র্টার : হাম ফিরে এসেছে ভয়ঙ্কর রূপে। দিনে দিনে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠছে হাম। কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না শিশু মৃত্যু। চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে সন্তান। আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতাল চত্বর কিংবা বাড়ির আঙিনা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলো এখন কান্না আর উদ্বেগে ভরা।
শেষ ২৪ ঘন্টায়ও ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ শিশু, এরমধ্যে সিলেটেই ৪ জন। এছাড়া ঢাকায় ৪, চট্টগ্রামে ২, সিলেটে ৪, বরিশালে ১ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে।
এ নিয়ে দেশে শিশুর মৃত্যু ৫১২-তে পৌঁছেছে, আর সিলেটে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ালো ৫১ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১২ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৫ হাজার ১১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
সিলেটে ৪ মৃত্যুর তথ্য :
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মারা যাওয়া ৪ শিশুর মধ্যে ২ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তাদের মধ্যে ২ জন সিলেটের আর মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের ১ জন করে।
এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৯৫ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও এই সময়ে ৪৩ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিল, সেটি নিশ্চিত করা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত বিভাগে মোট ১৫৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যা নয়; একটি স্বপ্নের মৃত্যু, যেন একটি পরিবারে বিরাট ক্ষত আর অনেক বড় শূন্যতা, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এই মৃত্যু শুধু একটি ভাইরাসজনিত কারণে নয়; অবহেলা, টিকা-ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের সম্মিলিত ফল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, এগুলো তো অনাকাঙ্ক্ষি ঘটনা। অন্তর্বর্তী সরকারের অকার্যকারিতায় হামের মহামারী হয়েছে। এখন জরুরি অবস্থা ও মহামারী ঘোষণা করা এবং একই সঙ্গে আপদকালীন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে কার্যক্রম চালানো দরকার।
এদিকে, ঈদের সময় বাচ্চাদের নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাম আক্রান্ত রোগীদেরকে যাতে অন্য কারও সঙ্গে মিশতে না দেওয়া হয় এই ব্যাপারে আপনারা একটু সতর্ক থাকবেন।
শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা অনুরোধ করছি, ঈদের সময় মায়েরা যেন হাম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে যেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিয়ে না যায়। অনেক ভিড় আছে এমন জায়গায় তাদের যেন নিয়ে না যায়। ভালো বাচ্চাদেরকে অথবা হাম আক্রান্তদেরকে যাতে অন্য কারও সঙ্গে মিশতে না দেয়, এই ব্যাপারে আপনারা একটু সতর্ক করবেন সবাইকে।




