র্যাব সদস্যের খুনি বাপ্পি ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের ছেলে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ মে ২০২৬, ৯:৪২:০৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে র্যাব-৯ সদস্য ইমন আচার্য নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ইমন আচার্যের ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার সকালে এসএমপির কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি করা হয়েছে ঘটনার সময় গ্রেপ্তার আসাদুল আলম বাপ্পি (২২) কে। আটক বাপ্পি নগরীর কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে।
শনিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। আটক আসামী আদালতের বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব-৯ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নগরীর কিনব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া চলাকালে সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসে আসাদুল আলম বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই বাপ্পিকে আটক করে পুলিশ এবং তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পি একটি এলাকায় বাসার ভেতরে ঢুকে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় অভিযুক্ত আসাদুল আলম বাপ্পি নগরীর কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সে পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ছেলেটি ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে ঠিক আছে। কিন্তু অপকর্মের কারণে দীর্ঘদিন থেকে ছেলের সাথে পিতার কোন সম্পর্ক নেই। মৌখিকভাবে পিতা ছেলেটিকে ত্যাজ্য করে দিয়েছেন বলে আবুল হোসেন আমাকে নিশ্চিত করেছেন। তাই এর সাথে পিতার দলীয় সম্পর্ককে টেনে আনা সঠিক নয়। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।





