সিলেটে মাসে চাহিদা জ্বালানিবাহী ৪২ ট্রেনের, গেল মাসে চলেছে মাত্র ১টি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জুন ২০২৬, ৭:৪০:৩৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটসহ পুরো দেশেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ রেলপথের ওপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানির পর চারটি রুটে জ্বালানি পরিবহনের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুটি ট্রেনের প্রয়োজন হয়। তবে বিপুল চাহিদা এবং লাভজনক খাত হওয়া সত্ত্বেও পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশ রেলওয়ের রয়েছে বেশ অনীহা। প্রতি মাসে সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে যেখানে গড়ে ৪২টি জ্বালানিবাহী ট্রেনের চাহিদা থাকে, সেখানে গত মে মাসে চলেছে কেবল ১টি ট্রেন। ফলে সিলেট গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লোকোমোটিভ সংকট দীর্ঘদিনের। এ কারণে প্রতি মাসেই ৭০০-৮০০ ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়। একই সঙ্গে লোকোমোটিভ বিকল হওয়া এবং সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ার কারণে ট্রেনের যাত্রা শুরু ও গন্তব্যে পৌঁছতে বিলম্ব হচ্ছে, যা রেলওয়ের শিডিউল ব্যবস্থাকে করছে বিপর্যস্ত। যদিও পণ্যবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী ট্রেনের মতো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা নেই, তবু এ খাতে লোকোমোটিভ বরাদ্দে রেলওয়ের উদাসীনতা স্পষ্ট। ফলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি লাভজনক খাত পণ্য পরিবহনে পিছিয়ে থাকায় রেলওয়ের নিজস্ব রাজস্ব আয়ও কমছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, লোকোমোটিভ সংকটের কারণে একাধিক জ্বালানিবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চট্টগ্রামে আটকে রয়েছে। ২৫ মে থেকে সিলেটগামী একটি জ্বালানিবাহী ট্রেন লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পরও যাত্রা করতে পারেনি। একইভাবে ২৩ মে থেকে শ্রীমঙ্গলগামী জ্বালানিবাহী ট্রেন চট্টগ্রামের সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডে অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া লোকোমোটিভের অভাবে ২৬ মে থেকে নয়টি ট্রেনের সমপরিমাণ কনটেইনার বোঝাই বিএফসিটি (বগি ফ্ল্যাট কনটেইনার ট্রেন) রেক সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডে আটকে আছে। এসব রেকে মোট ৩৭৭ টিইইউস কনটেইনার বোঝাই রয়েছে। একই সঙ্গে ১ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে পড়ে আছে আরো ১৬৫ টিইইউস কনটেইনার।
এদিকে রেলপথে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় দেশের প্রধান সরবরাহ রুটগুলো পুরোপুরি সচল করা যাচ্ছে না। তাই লেট অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বিপণন প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড।
জ্বালানি বিপণন কোম্পানি ও রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে সিলেট ডিপোতে ৩০টি ও শ্রীমঙ্গলে ১২টি জ্বালানিবাহী ট্রেন পরিচালনার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মে মাসের প্রথম সাতদিনে সিলেট ডিপোয় একটি ট্রেনও চালানো সম্ভব হয়নি। ওই সময়ে কেবল শ্রীমঙ্গল ডিপোতে একটি ট্রেন পরিচালিত হয়েছে।
জানা গেছে, রেলের লোকোমোটিভ সংকট থাকায় সিলেট অঞ্চলের চাহিদা ভৈরব ডিপোর মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন কোম্পানি, ডিলার ও এজেন্টদের পরিবহন ব্যয় এবং সময় উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, রেলপথে জ্বালানি পরিবহন সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতি। ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি ওয়াগনে জ্বালানি পরিবহন করে বিভিন্ন ডিপোয় সরবরাহের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে বিকল্প পথে অধিক খরচ ও সময় ব্যয় করে জ্বালানি পরিবহন করতে হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত চিঠিপত্র ও বৈঠকের মাধ্যমে রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। রেলওয়ে পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ সরবরাহ করতে পারলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরো সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, প্রায় এক দশক ধরে লোকোমোটিভ সংকটে ভুগছে রেলওয়ে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন নতুন লোকোমোটিভ আমদানি না হওয়ায় দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।





