কোম্পানীগঞ্জে প্রধান শিক্ষক বুরহান উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জুন ২০২৬, ৯:৫৩:৪১ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: মো. বুরহান উদ্দিন কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগর। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি আলো ছড়িয়েছেন এই অঞ্চলে। তাঁর হাত ধরে হাজারো শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাঁর এই অবদান এলাকাবাসী ও বিদ্যাপীঠ আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। আপনার অবদান এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণায় লিখা থাকবে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দলইরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বুরহান উদ্দিনের চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কুমিল্লার শহীদনগর এমএ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন। জয়নাল আবেদিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট আলা উদ্দিন ও ফাহিমুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টিটু কুমার দে, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পাড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের, তেলিখাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মিয়া, অ্যাডভোকেট মখদ্দছ আলী, দলইরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহের আলী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসরাঈল আলী, দলইরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক মাস্টার রুহুল আমিন, চাটিবহর সরকারি প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল আলী, তেলিখাল সরকারি প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরুণ রায়, দলইরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়েশা হক, মাস্টার নিজাম উদ্দিন, মঈন উদ্দিন মিলন, রুবেল আহমদ, মিজান আরেফিন, পারভেজ হোসেন জনি, ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাবসুরা বিনতে মশিহুর।
বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শিক্ষক মো. বুরহান উদ্দিন তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা শুধু আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার ব্রত। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর সহকর্মীদের সহযোগিতাই ছিল আমার দীর্ঘ ৩৩ বছরের পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি অবসরে গেলেও আমার মন সবসময় এই বিদ্যালয়ের বারান্দায়, ক্লাসরুমেই পড়ে থাকবে। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ করে তুলতে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ক্বারী নোমান আহমদ।
অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। এছাড়াও তাঁকে ফুলেল শুভেচছায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।




