হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের পর মমতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জুন ২০২৬, ৮:৩২:৫১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হয়েছে| বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জী সিং নামে এক আইনজীবী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই লিখেছে|
মামলায় এ আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, মমতা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি উসকানিমূলক ও মানহানিকর| সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ ও গণমাধ্যমে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বজায়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক আর উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন|
“তিনি প্রকাশ্যে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন| এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের মাঝে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ ˆতরির চেষ্টা করেছেন|”
মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’ এলাকায় এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতায় রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়|
বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর প্রায় এক মাস পর বাংলাদেশে আগের বছরের বড় একটি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে তাকে ‘চুপ থাকতে বলেছিলেন ভারতের ¯^রাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’| পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে তার এ বক্তব্য প্রচার করা হয়| ওই বক্তব্যের এক দিন পরই তার বিরুদ্ধে মামলা হল|
বাংলাদেশ বড় ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার কে হয়েছিলেন, সে বিষয়ে কারও নাম না নিলেও ঘটনার ধারাবাহিকতা বলছে, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ২০২৫ সালের ডিসে¤^রে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়েই কথা বলেছেন|
হাদি হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে মমতা তখন বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল; যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল| অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার অধিকারও নেই বলার| কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হল ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে| বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে| এইটা তাদের কৃতিত্ব|
“কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় ¯^রাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়| কারণ এটা দেশের ব্যাপার| কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি|




