তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর : অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুন ২০২৬, ৭:৫১:৪২ অপরাহ্ন

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে| তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন এবং এর পরপরই চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে মর্মে জানা গেছে| এটি নতুন সরকারের ˆবদেশিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে বলে অনেকেই মনে করছেন|
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত| এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে| নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি, লি কিয়াং এবং আনোয়ার ইব্রাহিম| তবে তাদের মধ্যে প্রথম গন্তব্য হিসেবে তিনি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন| ফলে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য বেশ সম্মানের মনে করছেন| তারা আশা করছেন এ সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান মালয়েশিয়া সরকারের নিকট থেকে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দিবে| ব্যবসায়ীরা উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে মনে করেন| আর মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে ইচ্ছুক বাংলাদেশীদের প্রতিক্ষার অবসান হবে বলে তারা আশা করছেন| রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ইস্যুটির সমাধানে মালয়েশিয়ার সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে বলেও অনেকে আশা করছেন| সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে|
মালয়েশিয়া মুসলিম বিশ্বের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিস (ওআইসি) এবং ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য| ফলে এই সফর মুসলিম বিশ্ব ও আসিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীরে নেবার সুযোগ সৃষ্টি করেছে|
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার| বাংলাদেশ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উঠে আসা নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের ঋণে আবদ্ধ হওয়া, কাজ না পাওয়া, ফোর্সড লেবার এবং মানব পাচারের মতো গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার ৩১ মে ২০২৪ তারিখ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে| ফলে, বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার সাধারণ পর্যায়ের শ্রমবাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়| তারেক রহমান এর নতুন সরকার ˆবদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলাপ করেছেন| দেশে ফিরে তারা সাধারণ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবার ইঙ্গিত দিয়েছেন| সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বেশ আশার সঞ্চার করেছে|
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ১ কোটি ˆবদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছে| এ লক্ষ্য অর্জনে মালয়েশিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ| এজন্য বন্ধ শ্রমবাজারে আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর বেশ তাৎপর্য বহন করে| অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব কেবল পণ্য নয় শ্রম বিনিয়োগ বেশ গুরুত্বপূর্ণ| এর ফলে, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রগতি হবে| ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে|
সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে| বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে|




