ই-পাসপোর্ট জটিলতায় মালয়েশিয়া প্রবাসীরা : ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন ঝুঁকিতে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুলাই ২০২৬, ৬:৩৮:১১ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ই-পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘ বিলম্বে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী। মাসের পর মাস পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ায় অনেকের ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা নবায়ন আটকে যাচ্ছে। এতে বৈধ কর্মসংস্থান, চাকরি এবং অভিবাসন মর্যাদা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় পুরোনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি), জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের তথ্যের মধ্যে সামান্য অমিল থাকলেই আবেদন স্থগিত হয়ে বাংলাদেশে আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পুনঃযাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ফলে অনেক আবেদনকারীর পাসপোর্ট তিন থেকে ছয় মাস, এমনকি তারও বেশি সময় আটকে থাকছে।
বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এমআরপি কার্যক্রম বন্ধ করে ই-পাসপোর্ট চালু করে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার ই-পাসপোর্ট আবেদন জমা পড়ছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন তথ্যগত অসঙ্গতি কিংবা ‘মাল্টিপল অ্যাকটিভ’ শনাক্ত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়ছে।
হাইকমিশন সূত্র জানায়, আবেদনকারীর নামের বানান, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, বয়স কিংবা স্থায়ী ঠিকানায় সামান্য অমিল থাকলেও আবেদন আটকে যাচ্ছে। অতীতে এমআরপি পাসপোর্টে থাকা ভুল সংশোধন করে নতুন আবেদন করলে পুরোনো তথ্যের সঙ্গে অমিলের কারণে আবেদন পুনঃযাচাইয়ে পাঠাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, পাসপোর্ট না থাকায় নিয়োগকর্তারা ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন করতে পারছেন না। এতে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে আইনি জটিলতা ও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেকেই পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনেও দেশে ফিরতে পারছেন না।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার শাখার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, তথ্যগত অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আবেদন দ্রুত আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। তবে চূড়ান্ত যাচাই ও তথ্য সংশোধনের কাজ বাংলাদেশে হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগছে। আবেদন করার আগে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও আগের পাসপোর্টের তথ্য মিলিয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা বলেন, ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা আধুনিক ও নিরাপদ হলেও বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের জন্য পৃথক দ্রুত যাচাই (ফাস্ট-ট্র্যাক) ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মধ্যে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল সমন্বয় জোরদারের দাবি জানান তারা।
প্রবাসীদের ভাষ্য, একটি পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের নথি নয়; এটি তাদের পরিচয়, বৈধ কর্মসংস্থান, জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দ্রুত জটিলতা নিরসন করে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।






