সিউকের আনুষ্ঠানিক সেবা প্রদান শুরু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৪৮:০০ অপরাহ্ন
সিলেটকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর প্রথমবারের মতো মাত্র ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদনপত্র ও পেশাজীবী-প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে সংস্থাটি। এর মধ্য দিয়ে সিলেটে ভবন নির্মাণ, ভূমির ব্যবহার ও নগর পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথে দৃশ্যমান অগ্রযাত্রা শুরু হলো।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নগরের নাইওরপুলে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবন মালিক, স্থপতি, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুমোদনপত্র ও নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সনদ বিতরণ করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
অনুষ্ঠানে তিনজন ভবন মালিকের হাতে ভবনের নকশা অনুমোদনপত্র, নয়জনকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, পাঁচজন স্থপতিকে নিবন্ধন সনদ, ছয়জন প্রকৌশলীকে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয়টি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি কারিগরি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের সনদ প্রদান করা হয়।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে ৩১৫ জন পেশাজীবী, সংস্থা, স্থপতি ও প্রকৌশলীর সনদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবন মালিকদের হাতে অনুমোদিত নকশাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই মাসে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সিউকের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর পরিকল্পনায় শুধু অনুমোদন দেওয়াই যথেষ্ট নয়, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সিউক চেয়ারম্যান। এ কারণে অনুমোদিত নকশার বিপরীতে নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। ভবন মালিকদের পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও সচেতন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুতেই আইন প্রয়োগের পথে না গিয়ে প্রথমে মানুষকে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতে চায় সিউক। নির্দিষ্ট সময় পর প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবন মালিক, শহর ও দেশের স্বার্থেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিলেটকে পরিকল্পিত নগরায়ণের আওতায় এনে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সিউকের সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আরও দুই মাস আগে, এদিন থেকেই মূলত সেবাগ্রহীতাদের কাছে অনুমোদন ও নিবন্ধন সনদ হস্তান্তরের কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু হলো।
সিউক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন পাওয়ার পর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বিএনবিসি-২০২০ অনুসারে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিউক।
সংস্থাটিতে কর্মরত অথরাইজড অফিসার, সহকারী স্থপতি, উপসহকারী প্রকৌশলী, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব পরিদর্শনে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্মাণ-পরবর্তী নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণ কমিটির (বিসি কমিটি) মাধ্যমে নকশা অনুমোদনের পরও তদারকি কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। শুধু তাই নয়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবন ব্যবহারের আগে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ প্রদানও নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে ভূমির ব্যবহার থেকে শুরু করে নকশা অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ভবন ব্যবহারের অনুমতি পুরো প্রক্রিয়াকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- এমনটি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত ছাড়পত্র ও নিবন্ধন সনদ হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্য কোনো সংস্থা থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তা আইন অনুযায়ী অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে। এ অবস্থায় সিলেটে ভবন নির্মাণে সিউকের অনুমোদন ও নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিজ্ঞপ্তি






