আনসার আন্দোলন: পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ‘প্রমাণ’ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: সচিবালয়ের সামনে আনসার আন্দোলন নিয়ে শাহবাগ থানার মামলায় বাহিনীর ১৯৯ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, যাতে পুলিশের কাজে বাধাদানের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথা বলা হয়েছে।
তবে ‘গুরুতর আঘাতের’ অর্থাৎ হত্যাচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা পাননি তদন্ত কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ে পেশাজীবীদের বিভিন্ন পক্ষের আন্দোলনের মধ্যে চাকরি জাতীয়করণ করার দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন আনসার সদস্যরা।
দাবি আদায়ে তারা ২০২৪ সালে ২৫ অগাস্ট দিনভর সচিবালয় ঘেরাও করে রাখেন। রাতে সেখানে ছাত্রদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরে শিক্ষার্থী ও পুলিশ মিলে আনসারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ওই ঘটনায় শাহবাগসহ ঢাকার চারটি থানায় মামলা করে পুলিশ, যেখানে ৪২০ জনের নামসহ অজ্ঞাত কয়েক হাজার জনকে আসামি করা হয়।
‘দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার পরও’ বেআইনিভাবে সমাবেশ ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানায় ২৬ অগাস্ট মামলা করেন এসআই শামীম মীর মালত। মামলায় হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, আটকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুতর আঘাতেরও অভিযোগ আনা হয়।
মামলাড ২০৮ জন আনসার সদস্যের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি বাহিনীর দুই থেকে তিন হাজার সদস্যকে ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে আসামি করা হয়।
২২ মাস ধরে তদন্ত শেষে ১৯৯ আনসার সদস্যকে অভিযুক্ত করে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলার এজাহারে থাকা ২০৮ আসামির মধ্যে ৯ জনের নাম দুইবার ছিল। ইসান ও জয়নালের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। সেই হিসাবে অভিযোগপত্রে সব আসামিরই নাম রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, “আনসার সদস্যরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া করে। তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার পরেও তারা সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয় এবং পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়।
“পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৯ আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। তবে গুরুতর আঘাত বা হত্যাচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।”
গত ১৩ জুলাই অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা অভিযোগপত্রটি দেখেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির দিন আগামী ১৮ অগাস্ট রাখা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আনুমানিক ৮-১০ হাজার সদস্য তাদের সুযো-সুবিধা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট সকাল ৯টা থেকে সচিবালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু করেন। একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের ১৯ জন সমন্বয়ক সচিবালযের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের দাবি মানার জন্য সময় ঠিক করে সমাবেশ শেষ করতে বলা হয়। কিন্তু আনসার সদস্যরা এ অনুরোধ ‘অমান্য করে’ সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সচিবালয়ের মধ্যে থাকা কর্মচারীরা তখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
অভিযোগপত্রে এও বলা হয়, রাত ৯টার দিকে সচিবালয়ের সব সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে আনসার সদস্যদের বাধা দিলে আন্দোলনকারীরা যৌথ বাহিনীকে আক্রমণ করে। তাদের কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি আনসার সদস্যরা নিজেদের পোশাকে আগুন দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যৌথ বাহিনী সেখান থেকে ১৮৯ জন আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
আনসার সদস্যরা সচিবালয়ের আশপাশ এলাকায়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট এলাকায় মারাত্মক দাঙ্গা, হাঙ্গামা সৃষ্টি করে।
দ-বিধির ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য পালনের বাধার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রমাণিত হলে ৩ বছরের কারাদ-, অর্থদ- অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। আর ১৪৭ ধারায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য দুই বছরের কারাদ-, অর্থদ- অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সুমন কুমার নন্দী জানান, “আনসার সদস্যদের ওএসডি করা হয়েছে। তারা তো তাদের দাবি-দাওয়ার কথা জানিয়েছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
“অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তাদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করব। অব্যাহতি পেলে তো মামলার শেষ। আর যদি অভিযোগ গঠন হয়ে যায়, তাদের নির্দোষ প্রমাণে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”






