বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না : নিউইয়র্কে এড. জুবায়ের
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪:৫০ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদী হতেও দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথ ও সংসদে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি হলে কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন (কোবা) আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক রশীদ আহমদের সঞ্চালনায় সভায় নিউইয়র্কে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের মানুষের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। জামায়াতের এই নেতা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশকে সিবাদমুক্ত করা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তার বিপরীত কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতির সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, দুদক আইন, গুম কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে জুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই। প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে।
সাধারণ মানুষ বলতে শুরু করেছে, ‘আগেই ভালো ছিল।’ এর ফলে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সীমান্তে মানুষ হত্যা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাকের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানান তিনি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা, সংস্কার ও গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির সমালোচনা করে জুবায়ের বলেন, বিএনপি কথা ও কাজে মিল রাখছে না। দলীয়করণের মাধ্যমে বিএনপি নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, জনগণের অধিকার আদায়ে জামায়াতে ইসলামী রাজপথ ও সংসদে ভূমিকা রাখবে। আগামী দিনে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে লংমার্চ এবং অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের সব দল একমত। এ ইস্যুতে কোনো বিভেদ বা বিভক্তি নেই। বিদ্যুৎ বিপর্যয়, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয়ে আন্দোলনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় এবং সরকারকে অযথা বিব্রত করতে চায় না। তবে আগামী দিনে জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি থাকবে।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বাংলাদেশের রাজনীতি, জুলাই আন্দোলন, সংস্কার, নির্বাচন, বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান, দেশের ভবিষ্যৎ এবং প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। জুবায়ের এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের চলমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন।
তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। দেশ গঠনে দল-মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, টাইম টিভির সিইও ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক আজকালের বিশেষ প্রতিনিধি ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হককথার সাপ্তাহিকের এবিএম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আমার সিলেটের সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী দীপু, দৈনিক সংগ্রামের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এইচ এম আখতার হোসাইন ও ফটোসাংবাদিক জেমসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি






