লন্ডনের বেকটনে ধান চাষ প্রকল্প পরিদর্শনে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৫:২০ অপরাহ্ন

লন্ডন থেকে সংবাদদাতা: যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বেকটন এলাকার বাসিন্দা আন্তর্জাতিক শেফ আজম খান তাঁর বাড়ির বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর এ উদ্যোগ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. মো. নজরুল ইসলাম। সোমবার তিনি ‘আবেদ আজম ধান চাষ প্রকল্প’-এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন।
বেকটনে আজম খানের বাড়ির বাগানে বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত বীজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষ করা হচ্ছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, যুক্তরাজ্যের তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া ও সীমিত পরিসরের জমিতে ধান উৎপাদনের এ উদ্যোগ প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ, জাতের বৈশিষ্ট্য এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষের সম্ভাবনা যাচাই করতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিদর্শনকালে ড. মো. নজরুল ইসলাম প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যুক্তরাজ্যের ভিন্ন জলবায়ু ও কৃষি-পরিবেশে ধান চাষের এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, জমির উপযোগিতা এবং গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, যুক্তরাজ্যে এ জাতের ধান চাষের উপযোগী জমি পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে বাড়ির বাগানে পরীক্ষামূলক চাষের পর আরও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যে ধান চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য, সেচব্যবস্থা, মাটির ধরন, পানি নিষ্কাশন ও উৎপাদন ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে এ ধান চাষের সম্ভাবনা নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাগার এবং সেন্সবেরি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে এ উদ্যোগের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বা গবেষণার পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যে ধান চাষের সম্ভাবনা যাচাই করতে একাধিক মৌসুমে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গবেষণা এবং ফলনের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি বীজের নিবন্ধন, উদ্ভিদস্বাস্থ্যবিধি, পানি ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের মাটিতে সফলভাবে ধান উৎপাদন সম্ভব হলে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কৃষি উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশীয় কৃষি, খাদ্যসংস্কৃতি ও উদ্ভাবনী চাষাবাদ নিয়ে আগ্রহ বাড়াতে পারে।






