মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশি শ্রমিক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:২২:৩৮ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। বৈধ পাস বা পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তেরেংগানু রাজ্যে ৩৩৪টি অভিযানে ১ হাজার ২৫৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৭ জনকে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানের (ওভারস্টে) অভিযোগে আটক করা হয়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ১৫(৪) ধারার অধীনে অপরাধ। একই আইনের ১৫(১)(সি) ধারার বিধানও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে পাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী বিদেশিদের কেবল কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে নয়, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিদেশি কর্মীদের পাস নবায়ন, মেডিকেল পরীক্ষা ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে নিয়োগকর্তার গাফিলতি কিংবা নবায়নে বিলম্বের দায় শেষ পর্যন্ত শ্রমিকের ওপরও পড়তে পারে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ বিদেশি নাগরিকদের নিজেদের পাস ও পারমিটের মেয়াদ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। কোনো আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অবস্থান বৈধ-এমন ধারণা বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রে শুধু নিয়োগকর্তা বা এজেন্টের ওপর নির্ভর না করে নিজের পাসের মেয়াদ, নবায়নের অগ্রগতি এবং বৈধ অবস্থানের বিষয়টি নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেরেংগানুতে পরিচালিত একটি অভিযানে ছয়জন বিদেশিকে ওভারস্টের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকায় আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম শুধু আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় রয়েছে তদন্ত, মামলা, কম্পাউন্ড আদায় এবং আটক বিদেশিদের বহিষ্কার বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া। ফলে ওভারস্টে ধরা পড়লে একজন শ্রমিকের চাকরি হারানোর পাশাপাশি আটক, আইনি জটিলতা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি শ্রমিকদের বৈধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীর পাসের মেয়াদ কখন শেষ হচ্ছে, নবায়নের প্রক্রিয়া সময়মতো শুরু হয়েছে কি না এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ আছে কি নাÑএসব বিষয়ে নিয়োগকর্তাকে নজর রাখতে হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, তেরেংগানুতে বিদেশিদের অভিবাসন আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে অভিযান ও নথি যাচাই অব্যাহত থাকবে। ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বার্তা একটাইÑপাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা নয়, আগেই নিশ্চিত করতে হবে বৈধতা।







