আগামী ৫ বছরে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় আসবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আগামী ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে টিসিবির নানা উদ্যোগ ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের কারণে গত বছরের তুলনায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিসিবির তালিকা থেকে ৫৯ লাখ অযোগ্য উপকারভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত টিসিবির ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে দেশব্যাপী এত বড় পরিসরের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর ঐচ্ছিক নয় অপরিহার্য। টিসিবির এই ডিজিটাল রূপান্তর তিনটি বিষয়কে সব সময় গুরুত্ব দেবে। সেগুলো হলো উপকারভোগীর সুবিধা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা।
মুক্তাদির বলেন, এখানে সাপ্লাই চেইনটা এখনো মসৃণ হয় নাই। বিভিন্ন কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যে বড় আকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় নাই। দেশের কোনো এক জায়গায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য যখন খুচরা বাজারে আসে ২০০-২৫০ কিলোমিটার দূরে; সিটি করপোরেশন অথবা রাজধানীতে, অনেক সময় দেখা যায় যে উৎপাদন পর্যায়ের মূল্য আর খুচরা বিক্রয় পর্যায়ের মূল্যের মধ্যে ব্যবধানটা গ্রহণযোগ্য হয় না।
তিনি বলেন, ১৮-২০ কোটি মানুষের দেশে সিজনাল গ্যাপ হোক অথবা কোনো কারণেই হোক, হঠাৎ করে কোনো এক সময় পাঁচ-সাত দিন বা ১০-১৫ দিনের জন্য একটা পণ্যের শূন্যতা তৈরি হতে পারে না। বাজারের মধ্যে পারফেকশন না থাকলেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুট-ঝামেলা তৈরি হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, এই দেশ এখনো একটা স্ট্রাগলিং দেশ। আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্রসীমার উপরে উঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করছেন। ১৮-২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দারিদ্র্যসীমায় অথবা দারিদ্র্যসীমার নিচে আছেন। একটা অংশ অতি দারিদ্র্যসীমার ভেতরে আছেন।
টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কর্মসংস্থানের অভাব আছে, এটা বাস্তবতা। আয়ের পর্যাপ্ত সুযোগের স্বল্পতা আছে, এটিও বাস্তবতা। এখন সব আগ্রহী প্রার্থীকেই টিসিবির ডিলার বানিয়ে দেওয়া সম্ভব না। কারণ সংখ্যাটা নির্ধারিত। কোনো জায়গায় যদি ১০ জন আবেদন করেন, আর সেখানে উপকারভোগী থাকেন দেড় হাজার, এই দেড় হাজার উপকারভোগীর জন্য একজনই নির্ধারিত। পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড প্রতি একজন হবেন, একটি ইউনিয়নে একজন হবেন। আগ্রহী প্রার্থী যদি থাকেন পাঁচজন, বাকি চারজনকে মেনে নিতে হবে যে এটি একজনই পাবেন।






