খাজনা জটিলতায় কোম্পানীগঞ্জে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি বন্ধ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন
দলিল লেখকদের মানববন্ধন

oplus_0
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন এবং সার্ভার জটিলতা নিরসন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দলিল লেখকরা।
মঙ্গলবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দেশজুড়ে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সুফল মিললেও কোম্পানীগঞ্জের মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অনলাইন ব্যবস্থায় স্থায়ী অনুমোদন না থাকা এবং সার্ভার ও কোড জটিলতার কারণে খাজনা আদায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তারা বলেন, জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের সময় অনলাইনে পরিশোধিত খাজনার দাখিলা উপস্থাপন বাধ্যতামূলক। কিন্তু সিস্টেম বন্ধ থাকায় মানুষ খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না এবং জমি রেজিস্ট্রিও করতে পারছেন না। একই কারণে খাজনা পরিশোধের হালনাগাদ রসিদ না থাকায় নামজারির (মিউটেশন) শত শত আবেদনও অনলাইনে ঝুলে রয়েছে। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শামস উদ্দিন শাহিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিনিয়র দলিল লেখক মো. মোজাম্মেল হোসেন, সুমন আহমেদ, কামরুজ্জামান, আশরাফ আলী, শাহাব উদ্দিন, আমিরুল হক, বাবুল আহমদ, জিয়াউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম তুহিন, সাহেদ আহমেদ, সাইফুর রহমান, সোলেমান আহমদ, তাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদির রিটন, হানিফ আলী, মুজিবুর রহমান, সাজ্জাদ মিয়া, মুখলিছুর রহমান ও মদরিছ আলীসহ অনেকে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে খাজনা পরিশোধের দাখিলা ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। সার্ভার ও কারিগরি জটিলতার কারণে বর্তমানে সাধারণ মানুষ খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে।
তিনি বলেন, আগে এ অফিসে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি দলিল রেজিস্ট্রি হলেও বর্তমানে তা ১০টির নিচে নেমে এসেছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকি অনেক প্রবাসী জরুরি ছুটিতে দেশে এসে জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয় উন্নয়নে এর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি দলিল নিবন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার ৩ শতাংশ কর পায়। রেজিস্ট্রি কমে যাওয়ায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার বলেন, বর্তমানে উপজেলায় দুটি তহশিল অফিস রয়েছে। তবে কোনোটিরই প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। এগুলো ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নামজারিসহ কিছু কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত কোনো স্থায়ী জনবল বা বরাদ্দও নেই। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল। সেখানে নিকটবর্তী অনুমোদিত তহশিল অফিসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তবে কোম্পানীগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও বলেন, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন ও কোডসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সার্ভারের ত্রুটি নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন, সার্ভার ও কোড জটিলতা দ্রুত নিরসন এবং জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়।






