‘পণ্ডিত বিজন চৌধুরী সম্মাননা’ পেলেন তবলাশিল্পী পিনুসেন দাশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন

তবলাশিল্পী পিনুসেন দাশ ‘পণ্ডিত বিজন চৌধুরী সম্মাননা-২০২৬’ লাভ করেছেন। তবলাবাদন, শিক্ষকতা এবং বাংলাদেশের দেড়শো বছরের গুণী তবলাশিল্পীদের বিস্মৃতপ্রায় জীবন ও কর্ম নিয়ে গ্রন্থ রচনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত তবলাসাধক পণ্ডিত বিজন চৌধুরীর স্মরণে সম্প্রতি (গত ১৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আনন্দী সঙ্গীত একাডেমি আয়োজিত ‘পণ্ডিত বিজন চৌধুরী উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন-২০২৬’-এ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পিনুসেন দাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর পক্ষে সম্মেলনের উদ্বোধক, চট্টগ্রামের গুণী তবলাশিল্পী সুদীপ সেনগুপ্ত সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র গ্রহণ করেন। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেএনআইয়েদ উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী।
পিনুসেন দাশ বাংলাদেশের একটি খ্যাতিমান সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য সংগীতসাধক পণ্ডিত রামকানাই দাশ এবং মা সুবর্ণা দাশ লোকধারা ও ধামাইল গানের রচয়িতা। বাবার কাছেই তাঁর তবলায় হাতেখড়ি। পরবর্তীকালে কলকাতায় বেনারস ঘরানার প্রখ্যাত তবলাশিল্পী পণ্ডিত সমর সাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এ ছাড়া পদ্মশ্রী তালযোগী পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকার ও তালরং পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্যের কাছেও তবলায় তালিম নেন।
মাত্র সাত বছর বয়সে শিশু একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে তবলা বাজিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রশংসিত হন তিনি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শিশু একাডেমির সংগীত বিভাগের তবলা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ বেতার এবং ২০০১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তবলাশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০০ সালে সিলেটে তাঁর পরিচালনায় ছাত্রদের সমবেত তবলাবাদন শুনে মুগ্ধ হন ছায়ানটের তৎকালীন সভাপতি ড. সনজীদা খাতুন। এরপর ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনে তবলার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহাসিক বর্ষবরণসহ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আয়োজনে তবলাশিল্পী হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও একক তবলাবাদন পরিবেশন করেন তিনি।
২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরপর দুই বছর বেঙ্গল ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-এর মঞ্চে তবলাবাদন করেন পিনুসেন দাশ। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত ঘঅইঈ বঙ্গ সম্মেলনেও তিনি তবলাবাদনে অংশ নেন।
প্রায় তিন দশকের শিল্পীজীবনে পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, পণ্ডিত কুমার প্রসাদ মুখার্জি, বিদুষী শুভ্রা গুহ, উস্তাদ আরশাদ আলী খান, ড. সনজীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সাদি মহম্মদ, ফাতেমা তুজ জোহরা, শাহীন সামাদ, মিতা হক, অদিতি মহসিন, শ্রেয়া গুহঠাকুরতাসহ দেশ-বিদেশের বহু খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে তবলাসংগত করেছেন তিনি।
২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর তবলা শিক্ষাবিষয়ক গ্রন্থ ‘তবলার সহজ পাঠ’। ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের কীর্তিমান তবলাসাধক’, যেখানে বাংলাদেশের প্রায় দেড়শো বছরের গুণী তবলাশিল্পীদের জীবন ও কর্মকে গ্রন্থবদ্ধ করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পিনুসেন দাশ তবলাবাদনের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের মধ্যে তবলা শিক্ষা ও এর প্রচার-প্রসারে কাজ করছেন। বিজ্ঞপ্তি





