মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৪:১২ অপরাহ্ন

সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে। আগামী ১২ মাসের মধ্যেই মহাসড়কটির নতুন অবয়ব দৃশ্যমান হবে।
শনিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিয়ে শুধু পরিকল্পনা হয়েছে, বাস্তব অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরোনো সড়কটি নতুন ৪ লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেল যোগাযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুত এর কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের রেলপথের বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ব্যবসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি ও মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলাসহ ব্যবসার বিভিন্ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ কর্মদিবসে আনার ব্যবস্থা চলছে। তিনি জানান, সিলেটের সিএমএসএমই খাতকে এগিয়ে নিতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরই এর উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
নগরীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মানের ‘এআই ট্রেনিং সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মনিম মল্লিক মুন্না। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিষদের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাবেল। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ উদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক রতন দে।
দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট
চেম্বার গঠনের আহ্বান মন্ত্রী আরিফের
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ যেভাবে কাজ করে দেখিয়েছে, তারা সিলেট চেম্বার অব কমার্স থেকে কোনো অংশে কম নয়। মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ যদি পারে, তাহলে সিলেট চেম্বার অব কমার্স কেন পারবে না?’
তিনি আরও বলেন, সিলেট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির নগরী। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা নয়। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বিভিন্ন সেক্টরে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
অসময়ে মেলা আয়োজনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে। বিষয়টিকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন, অন্যথায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে উৎসাহ হারাতে পারেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াজ আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সামাদ তুহেল ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ।
এ সময় সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন মার্কেটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি





