২০২৭ সালে চালু হচ্ছে সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৪:৫৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নবনির্মিত সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। শুরুতে দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে আসন সংখ্যা এখনও চুড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। এটি চালু হলে সিলেটে কারিগরি শিক্ষার প্রসার বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনায় ৩ একর ৩৮ শতাংশ জমির ওপর ইনস্টিটিউটের সাতটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনগুলোর মধ্যে একটি ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ভবন, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবন, ছয়তলা ওয়ার্কশপ ভবন, একতলা অধ্যক্ষের বাসভবন, পাঁচতলা ডরমিটরি, চারতলা ২০০ শয্যার ছাত্রীনিবাস এবং তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০২১ সালের প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৪০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়। পরবর্তী সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৪০১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। পুরো প্রকল্পের মধ্যে সিলেটের জন্য বরাদ্দ ১১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি টাকার বেশি। সাতটি ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। সিলেটে জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় কাজ পিছিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দিলে বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব হয়। পরে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। আট বছর পর প্রকল্পটির অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। তবে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ওই বছরই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের জুনে। এ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৫৩ শতাংশ। একই বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৮ শতাংশ। জুনে শুরু হওয়া ওয়ার্কশপ ভবনের কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।অধ্যক্ষের বাসভবনের ৮২ শতাংশ, ডরমিটরি ভবনের ৬২ শতাংশ, স্টাফ কোয়ার্টারের ৩২ শতাংশ এবং ছাত্রীনিবাসের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে ৯০ শতাংশ। সীমানাপ্রাচীর ও ফটক নির্মাণের অগ্রগতি ২২ শতাংশ। তবে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, জেনারেটর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন ও শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফুড এবং গ্রাফিক ডিজাইন টেকনোলজি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরুতে দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ফুড ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন বলেন, প্রকল্পের তথ্য সম্বলিত ব্যানার ছিল। বৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পুনরায় ব্যানার লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হবে। তিনি বলেন, ‘সীমানাপ্রাচীর ও ফটক, ড্রেন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা এবং শহীদ মিনারসহ অন্যান্য কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগগির এসব কাজ শেষ হবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান বলেন, প্রকল্পের সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান। সিলেটে এ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সিলেটে মূলত ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দেয়। পরে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। সাতটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪৬ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁঞা বলেন, ২০২৭ সাল থেকে সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। করোনাভাইরাস মহামারি ও বন্যার কারণে কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিলেটে তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী থাকায় প্রথমে দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফুড ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






