নভেম্বরের শুরুতেই শীত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : কুয়াশার হালকা ওড়না উড়িয়ে, হিমালয়ের হিমেল পরশ মেখে বাংলায় আসছে শীত। আজ ৮ কার্তিক; ভোরের আকাশে এখন সোনালী রোদের চেয়ে হালকা কুয়াশার মায়াজালই বেশি চোখে পড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আভাস দিয়েছে, আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে সিলেটসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে। সিলেটের গ্রামীণ এলাকাতেও তাপমাত্রা কমেছে। তিনি বলেন, সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। তবে এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনোটিতেই বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়।
তবে এবারের লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বেশি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক।
শুক্রবার আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।





