দিরাই’র সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রদীপ কারাগারে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জুলাই ২০২৫, ৮:২৭:১৪ অপরাহ্ন
দিরাই প্রতিনিধি: একাধিক হত্যা মামলার আসামি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রদীপ রায়কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। সুনামগঞ্জ সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলায় এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি প্রদীপ রায়কে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২ টায় সিলেট শহরের লন্ডনী রোডের একটি বাসায় আটক করে দিরাই’র একটি হত্যা মামলার বাদীপক্ষের লোকজন। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটকা অবস্থা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে বিকেল পাঁচটায় আদালতে আনা হয়। সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মুহা. হেলাল উদ্দিন তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সদর থানায় গত বছরের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি প্রদীপ রায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তাছাড়া ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের পাশে উদির হাওর জলমহালের দখল নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ওই গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা কাজল নূর পক্ষের রুহেদ মিয়া (৪০) নিহত হন। দুইপক্ষই জলমহালে মাছ ধরার চেষ্টা করছিল। সংঘর্ষে নিহত রুহেদ মিয়া কাজল নূরের চাচাতো ভাই। ঘটনার পাঁচ দিন পর নিহত রুহেদ মিয়ার ভাই সুহেদ মিয়া বাদী হয়ে প্রদীপ রায়সহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলায় ২৯ অক্টোবর রাতে সিলেট থেকে প্রদীপ রায়কে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, এলাকার একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ওই জলমহাল ইজারা নিলেও এর পেছনে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রায় ও কামাল উদ্দিন। এই মামলা ছাড়াও প্রদীপ রায় আরেকটি হত্যা মামলার আসামি। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি উপজেলার জারলিয়া জলমহালের দখল নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় যুবলীগ নেতা কুলঞ্জ ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান একরার হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ শীর্ষ নেতা প্রদীপ রায়, দিরাই পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মোশাররফ মিয়া, দিরাই উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদারসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এই মামলাটি এখন তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এছাড়াও ২০২২ সালের নভেম্বরে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনমঞ্চে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য ও জেলার নেতাদের উপস্থিতিতে দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনায় দায়ের করা পাল্টা পাল্টি দুই মামলার প্রধান আসামী প্রদীপ রায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রদীপ রায় দীর্ঘদিন ধরে বাসাটি ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। দিরাই পৌর এলাকার আনোয়ারপুরের প্রভাত রায়ের ছেলে প্রদীপ রায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই সদস্যের কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে দূর্নীতি, জলমহাল দখলে সংঘর্ষসহ ও একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।







