শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচ ঘিরে সংঘাতের শঙ্কা, বন্ধ চেয়ে আবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর খাই হাওরে অনুষ্ঠিতব্য নৌকা বাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রুজেল আহমদ।
জানা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী আবুল হোসেনের উদ্যোগে ধলমৈশা ও হাঁসকুড়ি গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের অংশগ্রহণে খাই হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আয়োজনের কথা রয়েছে।
ইউএনওর কাছে দেওয়া আবেদনে প্যানেল চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, নৌকা বাইচ আয়োজনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের অবগত করা হয়নি। এমনকি তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এ ছাড়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক পক্ষের লোকজন ফেসবুকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রুজেল আহমদ বলেন, আয়োজনের বিষয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত না করে এত বড় আয়োজন করায় কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর দাবি, স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন করা হলে তাঁর আপত্তি থাকবে না। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ইউএনও ও থানার ওসির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে নৌকা বাইচের আয়োজক আবুল হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নৌকা বাইচের আয়োজন করে আসছেন। এর আগে কোনো সমস্যা হয়নি, এবারও হবে না বলে তিনি আশা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে বা কারা কী লিখছেন বা গালাগালি করছেন, তা তাঁর জানা নেই।
তিনি জানান, হাঁসকুড়ি, ধলমৈশা, উলারপিঠা, শান্তিপুর ও বাবনগাঁও-এই পাঁচ গ্রামের অংশগ্রহণে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনের সঙ্গে জড়িত সবাই পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। মারামারি বা সংঘাতের জন্য নয়, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন এবং থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলী উল্লাহ বলেন, তাঁর কাছে সরাসরি কেউ অভিযোগ করেননি। ইউএনও বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।






