ঈদযাত্রায় ভোগাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ মে ২০২৬, ১১:০০:১২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শঙ্কা থেকে যাচ্ছে সিলেটের পথে| সিলেট যাত্রায় ভোগান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে এই মহাসড়কের সম্প্রসারণকাজ| আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকা থেকে সিলেটে যাত্রায় ভোগাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২১ পয়েন্ট| সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঞ্চন সেতুর সংযোগ সড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের কিছু অংশ, সাসেক প্রকল্পের আওতাধীন কাঁচপুর সেতুর কাছে যাত্রামোড়া এলাকা| পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি গত ১১ মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ˆবঠকে তুলে ধরা হয়| এছাড়া পরদিন ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ˆবঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়|
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি পয়েন্ট বেশি ঝুঁকিপূর্ণ| ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে চলমান ফ্লাইওভার, ওভারপাস ও এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ এলাকা, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, সেতুর সংযোগ সড়ক, টোলপ্লাজা, বাস টার্মিনাল, শিল্পাঞ্চল, বাজার ও ইউ-টার্ন|
পোশাক কারখানা ছুটির পর অনেক মানুষ একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়, সে সময় এই পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজট হতে পারে| পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে বসা অস্থায়ী পশুর হাট যানজট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, সতর্ক করেছে পুলিশ| প্রতিবেদনে হাইওয়ে পুলিশ, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং ঈদের সময় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের সুপারিশ করেছে|
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে (ঢাকা বাইপাস) সংস্কারকাজ চালু থাকায় নারায়ণগঞ্জের তিনটি প্রধান মহাসড়কে ঈদের আগে যানজট আরও বাড়বে| গত ১৬ ও ১৭ মে এই মহাসড়কের কাঁচপুর, যাত্রামুড়া, বরাব, রূপসী ও ভুলতা এলাকার একাধিক স্থানে যানজট দেখা গেছে| বৃষ্টিতে সড়কের খানাখন্দে জলাবদ্ধতা ˆতরি হওয়ায় অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে|
ঢাকা থেকে বের হতেই ভোগান্তির কারণ হতে পারে পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজের পশ্চিম পাশে গাউছিয়া বাজার, রূপসী বাসস্ট্যান্ড, বরপা বাসস্ট্যান্ড, পাকিস্তানি (এসিএস) গার্মেন্টস এলাকা ও ছনপাড়ার যানজট| এসব এলাকায় সড়কজুড়ে বাজার বসায় তা যানজটের অন্যতম কারণ হতে পারে| এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির কারণ হতে পারে সম্প্রসারণকাজ|
যাত্রী ও চালকদের আশঙ্কা, ঈদযাত্রা ও ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্বর থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে| এই করিডরটি ৬টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাকে যুক্ত করেছে|
তাদের মতে, আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন প্রকল্পের কাজ খুবই ধীরে এগোচ্ছে| আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড গোল চত্বরের কাজও অসমাপ্ত| এছাড়া দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়কের পাশে যানবাহন পার্কিং এবং অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল করে তুলেছে|
বাংলাদেশ-ভারতের অর্থায়নে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকায় ৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ আশুগঞ্জ-আখাউড়া মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০২০ সালে শুরু হয়| পুনর্নকশা, অর্থসংক্রান্ত জটিলতা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শ্রমিকদের চলে যাওয়ার কারণে কাজের গতি কমে যায়| সামগ্রিক অগ্রগতি ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে|
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে বান্টি বাজার পর্যন্ত ছয় লেনের কাজ চলছে| পুরো সড়ক ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে সংস্কারকাজের কারণে| বৃষ্টি হলে কাদাপানিতে ভোগান্তি বাড়ে| বাসচালকেরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাড়তি পুলিশ না থাকলে ব্যাপক ভোগান্তি হতে পারে| নরসিংদীর প্রায় ৫২ কিলোমিটার এলাকায় ইটাখোলা মোড়, ভেলানগর, জেলখানা মোড়, পাঁচদোনা মোড়, জঙ্গীশিবপুর বাজার, বারৈচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে সম্প্রসারণকাজের পাশাপাশি উড়ালসড়ক নির্মাণকাজ চলছে| যাত্রী ও গাড়িচালকেরা বলছেন, নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে| এতে ভোগান্তি বাড়বে| সেই সঙ্গে বৃষ্টি হলে ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়তে পারে| এ ছাড়া মরজাল, জঙ্গীশিবপুর, বারৈচা ও গোকুলনগর এলাকায় মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন লটকন ও সবজির হাট বসে| এতে যানজট বাড়তে পারে|
ঢাকা থেকে যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যেতে পারে, সে জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ| তবে এরপর শঙ্কার কথা বলেছেন খোদ মন্ত্রী| ঈদে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বাড়ি ফেরা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম| ঈদের প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি বলেছেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত এবং পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে|
হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, যান চলাচল ¯^াভাবিক রাখা, গবাদি পশুবাহী ট্রাক ও ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা, সেতুর সংযোগ সড়ক ও নির্মাণ এলাকায় মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, উদ্ধারকারী দল দায়িত্ব পালন করবে| সেই সঙ্গে থাকবে রেকার|
তারপরও জনবল ও লজিস্টিক পর্যাপ্ত না—মনে করেন তারা| হাইওয়ে পুলিশের প্রায় ৩ হাজার ৩০ জন সদস্য এবং টহল পিকআপ ভ্যান মাত্র ৯৯টি| হাইওয়ে পুলিশকে ৩ হাজার ৯৯০ কিলোমিটারের বেশি জাতীয় মহাসড়ক ও ৪২৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক তদারকি করতে হয়| অর্থাৎ ১টি গাড়ি নিয়ে প্রতি ৪৪ কিলোমিটার টহল দিতে হয়| এর মধ্যে ৭টি টহলযান বর্তমানে অকেজো|
হাইওয়ে পুলিশ ৪টি বিভাগ, ৮টি অঞ্চল, ১০টি সার্কেল, ৭৩টি থানা ও ৯টি ক্যাম্পের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে| কর্মকর্তারা জানান, যানজট সামাল দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঈদের আগে ডেপুটেশনে প্রায় ৯৯০ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে| তারা আরও বলেন, জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্ক কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ৬ হাজার সদস্য ও ২৫০টি টহলযান প্রয়োজন|
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খান বলেন, যানজটপ্রবণ স্থানগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে| তারা ঈদের আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে|
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা ¯^ীকার করেন, নির্মাণকাজ চালু থাকায় সড়ক সরু হয়ে গেছে| সেই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে জেলার তিনটি মহাসড়কেই যানজট পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ|
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে| ঈদের আগে আমাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমš^য়ে কাজ করে যানজট যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা হবে|




