অনুমোদিত হলো ২৫০ শয্যা হাসপাতাল :পরিচালনা করবে সিমেবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ১২:২২:২২ অপরাহ্ন

এমজেএইচ জামিল : নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ৩ বছর পরও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অভাবে চালু হচ্ছিল না ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। তবে এবার সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে চালুর পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে বহুল আলোচিত হাসপাতালটি। দীর্ঘ জটিলতার পর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে নগরীর চৌহাট্টা সংলগ্ন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ এলাকায় নির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল।
সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। সিলেটের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।
জানা গেছে, কে পরিচালনা করবে? সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাকি সিভিল সার্জন অফিস- এমন প্রশ্নে ২০২৩ সাল থেকে থমকে দাঁড়িয়েছিল হাসপাতালটি। কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আগ্রহী না হওয়া জনবল নিয়োগ, লজিস্টিক সাপোর্ট ও তদারকির বিষয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেওয়ার পরপরই এ নিয়ে উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। হাসপাতালটি চালু করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান তিনি।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। গত ২০ এপ্রিল তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেন তিনি।
এছাড়া গত ৩১ মে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে এক অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন, শিগগিরই ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। একই সঙ্গে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ২০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর আগে গত ২ মে সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিলেটের পরিবেশবাদী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আপত্তি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধা বিবেচনায় শতবর্ষের পুরনো আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙ্গে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণে মেডিকেল স্থাপত্যশৈলী ব্যবহার না করে আবাসিক ভবনের আদলে তা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাজ শেষ হলেও সিলেটের স্বাস্থ্যখাতের কোনো বিভাগই এটি হাসপাতাল রূপান্তরের দায়িত্ব নেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পায় পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। এর আগে আবু সিনা ছাত্রাবাস প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উল্লেখ করে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন সিলেটের নাগরিক সমাজ। তবে কোন কিছুকেই পাত্তা না দিয়ে নির্মিত হয় হাসপাতালটি।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনে আনুমানিক ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আটতলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষাঙ্গিক সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। যে কাজগুলো মাসখানেকের ভেতরে শেষ করা সম্ভব। এগুলো শেষ হলেই পুরোপুরিভাবে ভবনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
গণপূর্ত জানায়, হাসপাতাল ভবনের বেজমেন্টে রয়েছে কারপার্কিং। প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম। দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালট্যান্ট চেম্বার। তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক। চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ। পঞ্চম তলায় গাইনি বিভাগ, অপথালমোলজি, অর্থপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৯টি, সিসিইউ বেড ৯টি এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট গণপূর্ত বিভাগের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, হাসপাতালের নির্মাণের সকল কাজ শেষ। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হ্যান্ডওভার করতে চাই।
বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির বরাত দিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদিরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের তত্তাবধানে হাসপাতালটি চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করা হবে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিউকের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার অপরিকল্পিতভাবে শুধু একটা বিল্ডিং নির্মাণ করেছিল। সুনির্দিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ ছাড়া হাসপাতাল নির্মাণের ঘটনা নজিরবিহীন। বাণিজ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে হাসপাতালটি চালুর অনুমোদন মিলেছে। সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালটি পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আরেকটি পথ উন্মোচিত হবে।




