সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিতের শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুন ২০২৬, ৯:৩২:১১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : টানা বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীতে বাড়তে পারে পানি। আগামী এক সপ্তাহে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এতে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড়ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। কোথাও কোথাও পানি উঠলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টিপাত কমে এলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ সাত দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর বড় অংশই ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি ঢলনির্ভর। ফলে সীমান্তের ওপারে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব দ্রুত সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও অন্যান্য নদীতে পড়তে শুরু করে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না।
কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদী দুটি বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও হাওরাঞ্চলের কিছু অংশে পানি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, কংস, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও বেড়েছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার হাওরঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, উজানে অতিবৃষ্টি হলে দ্রুত পানি নেমে এসে নিচু জমি ও গ্রামীণ সড়কগুলো সাময়িকভাবে তলিয়ে যেতে পারে। যদিও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে বোরো ধান ঘরে তোলা শেষ হওয়ায় কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের এলাকায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় বৃষ্টিবহুল আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও একই ইঙ্গিত রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা বেড়েছে। ফলে বড় বন্যা না হলেও আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি প্লাবন এখন বর্ষা মৌসুমের একটি নিয়মিত ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি আপাতত উদ্বেগজনক না হলেও আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং উজানের অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কারণ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির প্রবাহ অনেকটাই নির্ভর করছে সীমান্তের ওপারের বৃষ্টির ওপর। ফলে পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টিপাত হলে স্থানীয়ভাবে পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।





