ছাতকে নিষিদ্ধ জালের দৌরাত্ম্য বিল-নদীতে অবাধে মাছ শিকার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৪:১০ অপরাহ্ন

ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিভিন্ন বিল, নদী, খাল ও জলাশয়ে কারেন্ট জাল, চায়না রিং জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ডিমওয়ালা মাছ, পোনা ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে। এতে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়ে কমে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ।
উপজেলার কুড়ি বিল, সিংগাপই বিল, নলুয়া বিল, মৌআলু বিল, দেউসাফরা বিল, বোকা নদী ও রাংড়িংগা নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না রিং জাল, ম্যাজিক জাল, সুতিজাল, চায়না দোয়ারী ও রিংচাই ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জালের ফাঁদে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। দেবেরগাঁও গ্রামের মৎস্যজীবী নরেশ চন্দ্র বলেন, কুড়ি বিলের আশপাশ ও বিলের ভেতরে অবৈধ চায়না দোয়ারী ও রিং জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। বিষয়টি মৎস্য অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়ে নির্বিচারে পোনা ও ছোট মাছ ধরার কারণে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একসময় ছাতকের বিল ও নদীতে শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈ, সরপুঁটি, পাবদা, আইড়, বাইম, খলসে, রিঠা, বেতাগা, বাঁশপাতা, রয়না ও কালিবাউশসহ বিভিন্ন দেশি মাছ প্রচুর পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক প্রজাতিই কমে গেছে। নিষিদ্ধ জালের কারণে মাছের পাশাপাশি সাপ, ব্যাঙ, শামুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, কোন কোন স্থানে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য দিলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সবার সহযোগিতা পেলে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, অবৈধ জাল উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারÑতিন ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ জাল বন্ধ, মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় জেলে ও মাছ শিকারিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।







